বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৭ ,৯ ফাল্গুন ১৪২৩
০৫ অক্টোবর ২০১৫ সোমবার , ১ : ১৬ অপরাহ্ন

  • মন্তব্য প্রতিবেদন - দুই ছক্কা পাঁচ - অরুন কুমার দে

    x

    Decrease font Enlarge font

    12345

    এ পেশায় কাউকে উপকার করতে নেই

    না, আমার বোদ বুদ্ধি এখনো মগজ থেকে হাঁটুর নিচে নামেনি। এ লিখায় যা বলছি এবং বলবো তা আমার জীবন থেকে নেয়া। কোথাও কোনো ধার দেনার বয়ান নেই। সবই হচ্ছে ‘সহজ ভাষার-গভীর কথা’। লোকে বলেন, সাংবাদিকরা হলো জাতির বিবেক ও সমাজের দর্পণ। তাদের মন মনন ও মানুষিকতা একেবারেই আলাদা। এ জন্যে মানুষ তাদের বরাবরই সম্মান করেন। পথে ঘাটে সালাম আদাবও দেন। তবে, এক কথায় বলতে গেলে এ সু-সময়টি ছিলো ষাট-সত্তর কিংবা আশির দশক পর্যন্ত। বর্তমানে নাকি এতোসবের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। হালের হাওয়ায় সবই পাল্টে গেছে। বরং ‘বিবেক ও দর্পণ’ দু’য়ে মিলে এখন মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে ? পাঠক, আসুন আপনাদের নিয়ে আমার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের চার দেয়ালের ভেতর একটু ঘুরে আসি। দেখে আসি কীভাবে মানুষ সামান্য স্বার্থে হুট করে অ-মানুষ হয়ে যায়। ধরাকে সরা মনে করেন। হ্যাঁ, দীর্ঘ সাংবাদিকতার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছি। আর সে সুবাদে অনেকেই আমার অধিনে কাজ করেছেন। যাদের মধ্যে শিক্ষিত-আধা শিক্ষিত এবং স্ব-শিক্ষিতও ছিলো। আজ তাদের অনেকেই নিজ গুনে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রিন্ট ও ইলেকট্রোনিক্স মিডিয়ায় দাপটের সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। সে তাদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। একই সাথে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মরত থেকে যেসব সংবাদকর্মীরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস আদালতের কর্মচারী সহ পিয়ন-টিয়নের ওপর সাংবাদিকতার ডাং ঘুরিয়ে থাকেন। কিংবা ক্ষমতার দাপটে যাকে তাকে চাকুরি খাইবার ভয়ভীতি দেখান সে তাদের প্রতি রইলো গভীর ক্ষোভ ও নিন্দা। ভুল না করলে এতোসব কথা হয়তো ডান্ডিবার্তা সম্পাদক জনাব হাবিবুর রহমান বাদল ও খবরের পাতা সম্পাদক জনাব মাহবুবুর রহমান মাসুম সাহেব ভালো করেই জানেন। বিশেষ করে তাদের হাউজেই ওইসব সংবাদকর্মীদের মধ্যে অনেকের হাতে খড়ি। কিংবা সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু। যাক, যা বলতে চাচ্ছিলাম তা হলো ২০০৯ সনের কথা। সে সময় আমি কিডনি চিকিৎসা সেবা শেষে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসেছি মাত্র। শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। তারও চেয়ে আরো বেশি অসুস্থ ছিলো আমার সংসারের অবস্থা। রোগ শোকে দারুন আর্থিক সংকটে পড়তে হয়েছে। বাধ্য হয়ে অসুস্থ শরীরেই আমাকে প্রায় দেড় যুগ বয়সের স্থানীয় একটি দৈনিকে প্রধান বার্তা সম্পাদকের কাজ নিতে হয়। কিন্তু বিধি বাম। এক মাসও সেখানে পার করতে পারিনি। ব্যক্তি স্বার্থে ব্যাপক আঘাত লাগায় অফিসের কতিপয় সহকর্মীরা সন্ত্রাসীদের মতো দলবদ্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ও বিদ্রোহ শুরু করে। এমন কী স্ব-শিক্ষিত যে ছেলেটিকে ছোট ভাই মনে করে এক সময় আমিই হাতে ধরে ওই পত্রিকায় এনেছিলাম শেষ পর্যন্ত সে ছেলেটিও আমার সাথে উৎকৃষ্ট বেঈমানি করেন। চক্ষু লজ্জা বলতে তার কিছুই ছিলোনা। বরং উল্টো এসে সে আমাকে জ্ঞান দেবার চেষ্টা করেছে। যা দেখে আমাকে রীতিমতো বিস্মিত হতে হয়। শুধু আমি নই, এ অবস্থায় ওই পত্রিকার সম্পাদক সাহেবও দু’চোখ কপালে উঠান। অদৃশ্যভাবে ওদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েন ! আর আমিও নিজেকে বাঁচাতে সম্পাদক সাহেবের সাথে কথা বলে অসুস্থ শরীরে বিদায় নিয়ে চলে আসি। আর দাঁতে দাঁত কাঁমড়িয়ে বলি দোহাই ‘এ পেশায় কেউ কাউকে কখনো উপকার করবেন না’। করলে, আমার মতোই বিপরীত শাস্তি পেতে হবে। কারণ, এ পেশার ওপরটা দেখতে যতোটা সুন্দর-ভেতরটা ঠিক ততোটাই নোংড়া এবং কালো ? পাদটিকা: এ জন্যে সাংবাদিক ইউনিয়ন কর্মকর্তাদের জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ। ওইদিন কে যেনো বললো, কোনো এক টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা পার্সন পিচ্চি রুবেলকে নাকি ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ মাদক ব্যবসার অভিযোগে অফিস থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন। ভেরী গুড নিউজ। আশা করি এমন আর কোনো ‘বেয়াদব’ অবশিষ্ট থেকে থাকলে তার বিরুদ্ধেও কতর্ৃৃপক্ষ একই রকম ব্যবস্থা নেবেন। একই সাথে বিনীত অনুরোধ রইলো ভুলেও বিনা নোটিশে আর কোনো সদস্যকে বলির পাঁঠা বানাবেন না। কারণ, দেশে এখনো আইন-কানুন বলে একটি কথা আছে। তাই এ ব্যাপারে যে কোনো সময়ে মামলা মোকদ্দমা খেয়ে যাওয়ার ষোলো আনা সম্ভবনা রয়েছে ? বিএফইউজে’র ঢাকা সূত্র জানান, এবার নাকি দশজন নয়, দুঃস্থ ও অসুস্থ হিসেবে নারায়ণগঞ্জে সরকারি অনুদানের টাকা পেয়েছেন  জয়নাল আবেদিন জয় ও অন্তু রেজা মিলে মাত্র দু’জন। স্থানীয় সূত্রমতে, যাদের একজনও ইউনিয়নের সদস্য নন। দু’জনের একজনও নন দুঃস্থ কিংবা অসুস্থ। উভয়েরই বিলাস বহুল জীবনযাপন সহ বাড়ি গাড়ি আছে। এখন অনেকেরই ভূত ভবিষ্যতের ভাবনা হচ্ছে কখন আবার শুনা যাবে জেলার কোনো কোটিপতি সংবাদকর্মী তলে তলে নাম লিখিয়েছেন অসুস্থ ও দুঃস্থ সাংবাদিকের খাতায়। এমনটি যদি হুট করে হয়েই যায় তা’হলে আয়নায় নিজের মুখও আর নিজে কখনো দেখা যাবেনা ? অন্যদিকে, মরহুম সাংবাদিক শামসুস সালেহীনের স্ত্রী সরকারি অনুদান পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জের কোনো নেতৃত্বের দ্বারা নয়। তার অনুদান এসেছে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির উদ্যোগে। যাক, শেষে এসে খোদ খোদার কাছে ওই দুঃস্থ ও অসুস্থ জয়নাল আবেদিন জয়দের জন্যে মঙ্গল ও সুস্থতা কামনা করি ?

    • মতামত লেখকের নিজস্ব। (অরুন কুমার দে: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট) ৩০-০৯-১৫ ইং।