শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১৭ ,১২ ফাল্গুন ১৪২৩
১২ নভেম্বর ২০১৬ শনিবার , ৮ : ৪৬ অপরাহ্ন

  • মশক নিধনে নাসিকের উদাসীনতা, বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

    x

    Decrease font Enlarge font

    05টাইমস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পেয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। আর এই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা হাসপাতালে আসছে শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ রোগীরা।

    তবে শুধু ডেঙ্গুই নয়, সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত মশক নিধনে কোথাও ঔষধ স্প্রে না করায় মশার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ম্যালেরিয়ার মত জ্বরেও ভুগেছেন অনেকে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী রোগীরা।

    জানাগেছে, জুন-জুলাই মাসে ডেঙ্গু মশার প্রজনন মওসুম। মূলত জমে থাকা বৃষ্টির পানি থাকলে ডেঙ্গু মশার প্রজনন বাড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টি হওয়ার কারনে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নগরীতে এই মশার উপদ্রব আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ করেন সচেতন নাগরিকরা।

    এব্যপারে নগরীর নিতাইগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা অমল সাহা জানান, আগে দেখতাম বিকেল হলেই মশা নিধনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অলিগরিতে স্প্রে করা হতো। কিন্তু এবার তা আর পরিলক্ষিত হয়নি। যেই কারনে সন্ধ্যার পর মশার অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে কয়েল জ্বালাতে হচ্ছে।

    কিন্তু বরাদ্দ থাকা সত্বেও নাসিকের মশক নিধন কার্যক্রম বন্ধ কেন এব্যাপারে জানতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের স্যানেটারী ইন্সপেক্টর আলমগীর হিরনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি।

    সূত্রমতে জানাগেছে, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ডেঙ্গু আশংকায় প্রতিদিন গড়ে ১০/১৫ জন রোগী নারায়ণগঞ্জ ১’শ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। এদের মধ্যে যার শরীরে ডেঙ্গু ধরা পড়ছে তাদেরই কেবল হাসপাতালে ভর্তি করানো হচ্ছে। আর বাকীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

    তাই বাড়ি বা বাড়ির আঙিনার কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

    এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডা: অনিরুদ্ধ টাইমস নারায়ণগঞ্জকে জানান, জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে প্রতিদিন হাসপাতালে যেসকল রোগী আসছে তাদের মধ্যে গড়ে ৫ জনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বর পাওয়া গেছে। তবে আশংকাজনক এখন কাউকে পাওয়া যায়নি।

    তিনি আরো জানান, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশীরভাগ রোগীদেরই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রিলিজ দেয়া হচ্ছে। আর যাদের প্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হচ্ছে।

    এদিকে, অন্য বছরের চেয়ে এবারের হার শুরু থেকেই বেশি। জুন থেকে এ পর্যন্ত যে হারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও শঙ্কিত হয়ে গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য সূত্র অনুসারে, বাংলাদেশে ২০০০ সালে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব তীব্র হয়। তখন থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কেবল সরকারের সংগৃহীত তথ্য মতে দেশে ২৮ হাজার ১০১ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ২৪২ জন। এর মধ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিল প্রথম পাঁচ বছর। ২০০০ সালে পাঁচ হাজার ৫৫১ জন আক্রান্ত হয়, মারা যায় ৯৩ জন; ২০০১ সালে দুই হাজার ৪৩০ জন আক্রান্ত হয়, মারা যায় ৪৪ জন; ২০০২ সালে ছয় হাজার ১৩২ জন আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় ৫৮ জন। ২০০৩ সালে হঠাৎ ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসে। সে বছর আক্রান্ত হয় ৪৮৬ জন এবং মারা যায় ১০ জন। তবে এরপর পরিস্থিতি ফের খারাপ আকার ধারণ করে। ২০০৪ সালে আক্রান্ত হয় তিন হাজার ৯৩৪ জন, মারা যায় ১৩ জন; ২০০৫ সালে আক্রান্ত হয় এক হাজার ৫৮ জন, মারা যায় চারজন এবং ২০০৬ সালে আক্রান্ত হয় দুই হাজার ২০০ জন, মারা যায় ১১ জন। এর পর থেকে টানা চার বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যুর রেকর্ড নেই সরকারি হিসাবে। যদিও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী প্রতিবছরই ছিল। কাছাকাছি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০১১ সালে। সে বছর এক হাজার ৩৬২ জন আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় ছয়জন।