বুধবার, জুন ২৮, ২০১৭ ,১৩ আষাঢ় ১৪২৪
২৮ নভেম্বর ২০১৬ সোমবার , ৯ : ১১ অপরাহ্ন

  • নগরীতে ‘চাপিলা’ নামে অবাধে বিক্রি হচ্ছে জাটকা

    x

    Decrease font Enlarge font

    06টাইমস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে অবাধে বিক্রি হচ্ছে জাটকা ইলিশ। প্রশাসনের নাকের ডগায় অবাধে জাটকা ইলিশ বিক্রি হলেও যেন দেখার কেউ নেই। মা ইলিশ সংরক্ষন করার জন্য আইন করা হলেও তা মানছে না কেউ। এখন দু’ধরণের জাটকার দেখা মেলে। এক ধরনের একটু বড়, আর এক ধরনের চাপিলা মাছের মতো ছোট জাটকা ইলিশ।

    প্রথমে দেখে মনে হয়, এগুলো চাপিলা মাছ আসলে তা নয়, এগুলো আসলে ইলিশের পোনা বা জাটকা মাছ। শহরের ৫নং ঘাটে বৃহৎ মাছ বাজারে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, মাছ বিক্রেতারা বিক্রি করছে ছোট জাটকা ইলিশ। ছবি তুলতে গেলেই দৌঁড় দিয়ে পালিয়ে যায়। কথা হলো বাজারের এক মাছ বিক্রেতার সাথে। তিনি জানান, এ গুলো খুবই অন্যায় কাজ, তারপরেও বিক্রি করছেন শুধু টাকার জন্য।

    শুধু ৫নং ঘাটেই নয়, শহরে, পাড়া মহল্লায়, ফুটপাতে, মাথায় ফেরি করে বিভিন্ন জায়গায় সকালে ও বিকেলে মাছ বিক্রেতারা অবাধে বিক্রি করছেন ইলিশের পোনা।

    স্থানীয়রা বলেন, আমাদের দেশের ইলিশের বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ববাজারে ইলিশ রপ্তানি করে প্রতি বছর আয় করছে বিপুল বৈদেশিক মূদ্রা। এভাবে যদি পোনা ইলিশ মাছ গুলোকে অঙ্কুরেই মেরে ফেলা হয় তাহলে এর প্রভাব পড়বে সামনের মৌসুমে। গত বছর পোনা ইলিশ নিধন না হওয়ার কারনেই এবার ইলিশের চাহিদার চেয়ে বেশি পূরন হয়েছে কিন্তু এবার ইলিশের পোনা নিধন করলে আগামীতে ইলিশের চাহিদা পূরন হবে না।

    তারা আরো বলেন, যারা এই পোনা মাছ ধরা ও বিক্রির সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে, নইলে আমাদের এর মাসুল গুনতে হবে।

    এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মর্জিনা বেগম জানান, আমরা এর আগেও মাছের আড়তে কয়েকটি সভা করেছি এবং মাছ ব্যবসায়ীদের সচেতন করছি। এরপরও আমরা সচেষ্ট আছি। অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। গত কয়েকদিন পূর্বে ৩নং মাছ ঘাটে মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা গিয়েছে, আমি আগামীকাল আবারও লোক পাঠাবো।

    এরআগে ৫নং মাছ ঘাটে মৎস্য অধিদপ্তরের একটি জনসচেনতা মূলক সভায় তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সরোয়ার হোসেন হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জে জাটকা মাছ বিক্রি করতে দেখতে পেলেই কারাদন্ড দেয়া হবে।

    কিন্তু বাস্তবতায় এমন হুংকারের কোন প্রতিফলন আদৌ পরিলক্ষিত হয়নি বিধায় জাটকা নিধন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সচেতন নাগরিকরা।

    • .