সোমবার, আগস্ট ২১, ২০১৭ ,৬ ভাদ্র ১৪২৪
২০ অক্টোবর ২০১৫ মঙ্গলবার , ৩ : ০৪ অপরাহ্ন

  • ফাটাকেষ্ট গাউছুল আজমের মত আফরোজা চৌধুরী’র কাছে শুদ্ধি অভিযান চায় না’গঞ্জবাসী

    x

    Decrease font Enlarge font

    01টাইমস নারায়নগঞ্জ : ঘন ঘন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের ভেজাল ব্যবসায়ী ও দূর্ণীতিবাজদেরকে যিনি শুদ্ধ করার যার পর নাই প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তিনি সারায়ণগঞ্জবাসীর সকলের পরিচিত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক ইউ এন ও গাউছুল আযম। যিনি জেলার বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)। ইউ এন ও গাউছুল আযম একের পর এক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ভেজাল মুক্ত খাদ্য সামগ্রী ও স্বাস্থ্যসম্মত সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। এতে করে নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় তথা এক নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। বিজ্ঞ মহলের ধারণা তার এই চৌকষ অভিযান এবং ব্যাপক সাফল্যতাই তাকে সর্বত্র জনপ্রিয়তার পাশাপাশি দিয়েছে এই নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হওয়ার এই পদোন্নতি।  যার ফলে নারায়ণগঞ্জবাসীর ভালবাসায় তিনি রয়ে গেছেন তার প্রিয় নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে। সূত্রমতে, ২০০৭ সালের ৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান গাউসুল আজম। দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই গাউসুল আজম ইউ এন ও হিসেবে উপজেলার অফিসে বসে ফাইল সই করার পরই প্রায়শ মোবাইল কোর্ট নিয়ে চষে বেড়াতেন নারায়ণগঞ্জের অশুদ্ধ কেন্দ্রগুলোতে। যেখানেই অনিয়মের গন্ধ পেয়েছেন সেখানেই ছুটে গেছেন তিনি। দিন কিংবা রাত,  রোদ কি বৃষ্টি কোনো কিছুই তার ছুটে চলায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি। নারায়ণগঞ্জের আবাসিক হোটেলগুলোতে অবাধে চলতো পতিতা ব্যবসা। গাউসুল আজম অভিযান চালিয়ে হোটেলগুলো সিলগালা করাসহ বিভিন্ন মেয়াদে জেল জরিমানা করে এই অনৈতিক কাজ রীতিমত বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের সিনেমা হল গুলোতে চলতো কাটপিস সম্বলিত অশ্লিল চলচ্চিত্র। সেখানেও চলে গাউসুল আজমের সাড়াশি অভিযান। বন্ধ হয় এই অপকর্ম। এমনিভাবে খানপুর ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতাল, ২’শ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, চাষারা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারসহ নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে সেখানে চলমান সকল প্রকার অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। এভাবে নারায়ণগঞ্জের অপরাধীদেও কাছে দিনে দিনে এক মূর্তিমান আতঙ্কে পরিনত হন গাউসুল আজম। আর সাধারণ মানুষের অন্তরে পাকাপোক্ত যায়গা করে নিয়ে ফাটাকেস্ট উপাধি লাভ করেন তিনি। তৎকালীন  ইউ এন ও গাউসুল আজমের যুগান্তকারী অবদান ছিলো নারায়ণগঞ্জে মাদকের হাট হিসেবে পরিচিত চানমারি থেকে চিরতরে মাদক নির্মূল করে সেখানে স্বপ্নডানা অবৈতনিক প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন। যা থেকে জনশ্রুতি হয়েছে এমন, জঙ্গলে মঙ্গল ঘটিয়েছেন গাউসুল আজম। সেই সময়ের আলোচিত বিচ্ছু বাহিনী গঠন করে একের পর হানা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের মাদক স্পটগুলোতে। উদ্ধার করেছেন বিপুল পরিমান মাদক। নারায়ণগঞ্জের মানুষ তখন স্বস্তিতে পথ চলতো এবং শান্তিতে ঘুমাতে যেতে পারতো বলে অভিমত এলাকাবাসীর। নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় জনতা আজও সেই শুদ্ধি অভিযানের ধারাবাহিকতা প্রত্যাশা করছেন বর্তমান ইউ এন ও’র কাছে। ২০১৫ সালের ১৫ ই মে নতুন ইউ এন ও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন আফরোজা আক্তার চৌধুরী। নারায়ণগঞ্জের মানুষ ভেবেছিলেন গাউসুল আজম যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকেই শুরু করবেন তিনি। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার পর ৫ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও তেমন কোন অভিযান লক্ষ্য করেনি শহরবাসী। তাই সকলের মাঝে আবারও অনিয়মের ভীতি ফিরে আসছে। নিয়মিত অফিস করা আর বিভিন্ন সভা সেমিনারে বক্তব্য দেওয়া ছাড়া বর্তমান ইউ এন ও’র এ ধরনের কোনো প্রকার কর্মকান্ড পরিলক্ষিত হয়নি বলে দাবি করেন নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল। এমনকি সভা সেমিনারে মূল আলোচনার চেয়ে মোবাইলেই তাকে বেশী ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় বলেও তারা অভিযোগ করেন। মাঝে মধ্যে নারায়ণগঞ্জের এসি ল্যান্ড কর্তৃক বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযান চললেও সদও ইউ এন ও আফরোজা আক্তার চৌধুরী এই ব্যাপারে উদাসীনই থেকে যান। আর তার এই উদাসীনতার সুযোগে নারায়ণগঞ্জের কালোবাজারি দুষ্কৃতিকারীরা আবারো মাথাচারা দিয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। ইদানীং আবারও হোটেলগুলোতে শুরু হয়ে গেছে পতিতা ব্যবসা, সিনেমা হলগুলোতে অবাধে চলছে অশ্লিল চলচ্চিত্র, অশ্লিল এইসব ছবির পোস্টারে ছেয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন দেয়াল। হাসপাতালগুলোতে আবারও দালাল আর বহিরাগতরা ভিরতে শুরু করেছে। চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার  ফের পরিনত হয়েছে মাদকসেবী আর ভাসমান পতিতাদের অভয়ারন্যে। অতি সম্প্রতি শহিদ মিনার থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজ ছাত্র অপহরণ হয়েছে, চাষাড়া রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয়েছে আবারও জমজমাট মাদক ব্যবসা। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, সাবেক ইউ এন ও এসবের দিকে সর্বদা কড়া নজর রাখতো, কিন্তু বর্তমান ইউ এন ও আফরোজা চৌধুরী কী এসবের খবর রাখেন না?  নাকি তিনি দেখতে চান না? সবকিছু দেখেও হয়তো তিনি না দেখার ভান করছেন এমনই মন্তব্য নারায়ণগঞ্জের আপামর জন সাধারনের। তাদের দাবী গাউসুল আজমের অসমাপ্ত কাজ সম্পাদন এবং তার কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য সদর উপজেলার বর্তমান ইউ এন ও কে গাইছুল আযমের মতই প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামা আবশ্যক। এ ব্যাপারে বর্তমান  ইউ এন ও আফরোজা আক্তার চৌধুরীর মতামত জানতে চাইলে তিনি টাইমস নারায়নগঞ্জকে জানান, আগের ইউ এন ও কি করেছেন, কিভাবে করেছেন তা আমি বলতে পারবোনা তবে মোবাইল কোর্ট করা ছাড়াও আমাকে আরো অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। সব দিক ঠিক রেখে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে। এ ব্যাপারে সাবেক ইউ এন ও এবং বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউসুল আজমের মতামত জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিয়া টাইমস নারায়নগঞ্জকে জানান, তিনি এ অভিযোগের সাথে একমত পোষন করেন না।