মঙ্গলবার, মে ২৩, ২০১৭ ,৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪
৩০ নভেম্বর ২০১৬ বুধবার , ৮ : ৫৪ অপরাহ্ন

  • টুকরো কাপড়ে গড়া আড়াইহাজারে তাসলিমার মিনি গার্মেন্ট

    x

    Decrease font Enlarge font

    13টাইমস নারায়ণগঞ্জ (আড়াইহাজার প্রতিনিধি): নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের উদয়দী গ্রামের তাসলিমা বেগম। ১৫ বছর আগে স্থানীয় যুবক কাসেমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামী স্থানীয় একটি (পাওয়ালুম) কারখানায় সপ্তাহিক বেতনে কাজ করতেন। সপ্তাহ শেষে যা পেতে তা দিয়েই কোনো মতো চলতো তাদের সাত সদস্যের পরিবার। স্বামীর একার আয়ে তিন বেলা তিন মুঠো ভাত জোগার করাই ছিল কষ্টসাধ্য। সন্তানদের লেখাপড়ার কথা চিন্তাই করতে পারছিলেন তাসলিমা বেগম। স্বামী, স্ত্রী মিলে দিনরাত পরিশ্রম করলেও; অভাব যেন পিছু ছাড়ছিল না। হঠাৎ একদিন স্থানীয় একনারীর পরামর্শেক্রমে ব্র্যাক ইকোমিক্স ইনপাওয়ারম্যান্ট ফরপোর এন্ড ভালনারেবল (ইইপি) সিইজ’র প্রকল্পের অধীনে সেলাই ও কাটিংয়ের ওপর প্রশিক্ষনে ভর্তি হন। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি রপ্ত করে ফেলেন পোশাক তৈরির নানা কলাকৌশল। প্রশিক্ষন শেষে বাড়িতে বসেই ছোট্রদের পোশাক তৈরির কাজ শুরু করেন। নজড়কারা ডিজাইনের পোশাক তৈরি করে অল্পদিনের মধ্যেই এলাকার সাড়া ফেলে দেন তিনি। পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি ক্রেতার সংখ্যা। প্রথম বছরেই তিনি লাভের মুখ দেখতে পান। পরে তিনি চিন্তা করেন ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করবেন। তিনি বাড়িতে গড়ে তুলেছেন গার্মেন্টের ফেলে দেয়া টুকরো কাপড় দিয়ে পোশাক তৈরির মিনি গার্মেন্ট। প্রথমে পাঁচটি দিয়ে শুরু করলেও স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পরে তিনি ২০ মেশিন কেনন। তাসলিমা নিজেই কাপড় কাটিং করেন। এলাকার নারী শ্রমিকরা বিভিন্ন মজুরীতে সেলাই করছেন। এতে স্থানীয় অনেক বেকার নারীর কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় তার প্রতিষ্ঠানটি “মিনি গার্মেন্ট” হিসাবে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে। বিভিন্ন্ এলাকার পাইকারী পোশাক বিক্রেতারা অর্ডার দিতে তার বাড়িতে প্রতিদিনই ছুঁটে যাচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষুদ্র (ফেরি) ব্যবসায়ীরা পাইকারী পোশাক কিনে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। একাজে তাসলিমাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বেসকারি সংস্থা ব্র্যাক কর্মসূচি সংগঠক কর্মীরা।

    সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ২০১৩ সালে স্থানীয় একনারীর পরামর্শেক্রমে ব্র্যাক ইকোমিক্স ইনপাওয়ারম্যান্ট ফরপোর এন্ড ভালনারেবল (ইইপি) সিইজ’র প্রকল্পের অধীনে সেলাই ও কাটিংয়ের ওপর ১৫ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষন নেয় তাসলিমা। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি পোশাক তৈরির নানা কলাকৌশল রপ্ত করে ফেলেন। পরে বাড়িতে বসেই নারীদের পোশাক তৈরির কাজ শুরু করেন। নজড়কারা ডিজাইনের পোশাক তৈরি করে অল্পদিনের মধ্যেই এলাকার নারীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে দেন তিনি। পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ক্রেতার সংখ্যা। পরে তিনি চিন্তা করেন ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করবেন। প্রথমে পাঁচটি মেশিন দিয়ে শুরু করলেও; স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২০টি মেশিন ক্রয় করেন। এতে ব্যবসার পরিধিও বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি বিশ জন নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পরে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দেখা গেছে, তাসলিমার বাড়িতে দিনভরই চলছে সেলাই কাজের কর্মযজ্ঞা। বাড়িতে ঢুকতেই বাতাসে ভেসে আসছে সেলাই মেশিনের ব্যাস্ত শব্দ।

    তাসলিমা বলেন, এক সময় সংসার চালাতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ইইপি থেকে সেলাই কাজ শিক্ষে গার্মেন্টের ফেলে দেয়া টুকরা কাপড় দিয়ে বাড়িতে বাচ্চাদের পোশাক তৈরি করে আগের তুলনায় ভালো আছি। এখানে এলাকার ২০ জন নারীর কাজ করে সংসারের খরচ মিঠাচ্ছেন। সব খরচ বাদে প্রতি মাসেই তাসলিমার ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় আয় হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িতে থাকার ভালো ঘর ছিল না। এরই মধ্যে তিনি পিড়া পাকা করে একটি চৌচালা ঘর দিয়েছেন। সন্তানদের পড়ালেখা করাতে পারছেন। পাশাপাশি কিছু টাকা মাসে সঞ্চয় করছেন। স্বামীকে এখন আর অন্যের কাজ করতে হয় না।’ এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি “মিনি গার্মেন্ট” হিসাবে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে।

    শ্রমিক জাহানারা বেগম বলেন, তার সাত সদস্যের পরিবারে স্বামী বাছেদ মিয়ার একার আয়ে কোনো মতো চলতে হতো। এখন তাসলিমার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে সপ্তাহ শেষে ১ হাজার থেকে বারোশ’ টাকা মজুরী পাচ্ছেন। তা দিয়ে আগের তুলনায় সংসার ভালো চলছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার সংসারে অভাব দূর হয়েছে। তাসলিমা আপা কারখানায় কাজ করে পোলা মাইগো স্কুলের পড়াইতাছি। কিছু ট্যাহা জমাই তাছি।’

    তাসলিমার স্বামী কাসেম বলেন, ‘আমি আগে পাওয়ারলুমে কাজ করতাম। এহোন নিজের কারখানার কাপড় বিভিন্ন বাজারে কাপড় পাইকারী ও খুচরা বেইচ্চা সংসার চলছে। সংসারের অভাব দূর হয়ছে।’

    বেসকারি সংস্থা ব্র্যাক কর্মসূচি সংগঠক সালেহ আহম্মেদ মজুমদার বলেন, হাইজাদী ইউনিয়নে প্রকল্পের অধীনে সিইজি’র ৬শ’ নারী উদ্যোগক্তা রয়েছে। তাদেরকে আমরা জেন্ডার সচেতনতাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। নারী উদ্যোগক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতে আমরা সহয়তা দিচ্ছি। এতে নতুন উদ্যোগক্তা সৃস্টির পাশাপাশি অনেক বেকাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

    • .