শনিবার, আগস্ট ১৯, ২০১৭ ,৪ ভাদ্র ১৪২৪
১৪ ডিসেম্বর ২০১৬ বুধবার , ৮ : ৪৯ অপরাহ্ন

  • আড়াইহাজারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি !

    x

    Decrease font Enlarge font

    15rটাইমস নারায়ণগঞ্জ (আড়াইহাজার প্রতিনিধি): আড়াইহাজার উপজেলার সরকারী হাসপাতালে বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানীর বিক্রিয় (রিপ্রেজেনিটভ) প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্যে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত বিড়ম্বণার শিকার হচ্ছেন। বইরে বের হলেই ব্যবস্থাপত্র নিয়ে করা হচ্ছে টানাহেচড়া। এতে রোগীরা বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ছেন। অফিস চলাকালিন সময়ে চিকিৎসকদের কক্ষে আনাগোনার ফলে রোগীদের ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন এমন অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। দালাল ও প্রতিধিনিদের ওৎপাত যেন এই সেবাকেন্দ্রের রোগীদের  “গা” সহা হয়ে গেছে। দেখা গেছে, ডাক্তারের কক্ষ থেকে রোগীরা বাহির হলেই ব্যবস্থাপত্র নিয়ে “টানাটানা হেচড়া” করা হচ্ছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, “প্রেসক্রিপশন” ঔষধ লিখার জন্য প্রতি মাসেই কলম, প্যাড, চাবির রিং থেকে শুরু করে টিভি-ফ্রিজসহ মোটা অংকের উপহার (উপডউকন) দিয়ে হয় ডাক্তারদের। তার বিনিময়ে প্রতিটি প্রেসক্রিপশনেই আমাদের ঔষধ লিখতে হবে। এছাড়াও এসব ব্যবস্থাপত্রের একটি কপি ইমেইল করে হেড অফিসেও পাঠাতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসকদের কক্ষ থেকে রোগী বের হলে এটির ছবি তুলতে রাখছেন।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের (আরএমও) ডাক্তার মোঃ হাবীব ইসমাইল ভূঁইয়ার স্থানীয় শ্বশুর বাড়ীর  প্রভাবশালী লোকজনের দাপটে তিনি অফিস চলাকলিন সময়ে টাকা বিনিময়ে রোগীদের ব্যবস্থা পত্র দিচ্ছেন। এতে বিনামূল্যে তার কাছ থেকে কেউ সেবা পাচ্ছে না। তার চার পাশে অর্ধডজন দালাল সর্বদাই বসে থাকেন। এছাড়ও তিনি অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঝে মধ্যেই স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখতে যান বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খোদ হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক অভিযোগ করেন। তবে হাবীব ইসমাইল এসব অভিযোগ বরাবরের মতই অস্বীকার করেছেন।

    কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব কান্দী গ্রামের জমিলা খাতুন জানান, কিছু দিন আগে আমি নাকের পলি পাইলস আক্রান্ত হয়ে সরকারী হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার পর আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় ডাক্তার হাবিব এর চেম্বারে। উনার কাছ থেকে আমি ২শ টাকা দিয়ে ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করি। কিন্তু উনি ব্যবস্থাপত্রে অযথা টেস্ট ও ঔষধ জুড়ে দেন। আমি ডাক্তার হাবিবের ব্যবস্থাপত্রের ওষুধ সেবন করার পর আমার অবস্থা আরও অবনতি হতে থাকে। পরে  প্রাইভেট হাসপাতাল ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা নেই এবং ঐ হাসপাতালে এক সপ্তাহ শয্যাশয়ী ছিলাম। তিনি আরও জানান, অযথা ওষুধ সেবন করার কারণে তার এ সমস্য হয়েছে বলে উক্ত হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন।

    আমার রোগী বেশী অসুস্থ হওয়ায় পরে বাধ্য হয়ে দালালের কথায় ২য় তলায় ডাক্তার হাবিব ইসমাইলের চেম্বারে নিয়ে যাই। সেখানে দেখি ওই চিকিৎসকের সঙ্গেই বসে খোশ গল্পে মেঁতে রয়েছেন ভিবন্ন ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা। ডাক্তার কোন কোম্পানীর ঔষধ রোগীর ব্যবস্থাপত্রে লিখবেন তা নিয়েও শুরু হয় তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি। আমি ২শ টাকা ভিজিট দিয়ে আমার খালাকে দেখালাম, চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসা মাত্রই আবারো নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন চিকিৎসক জানান, হাসপাতালের জনৈক এক ডাক্তারের ছত্রছায়ায় অনেক কিছু হয়। ডাক্তার স্থানীয় জামাতা হওয়ায় তার প্রভাবের কাছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অসহায়।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শরিফ হোসেন খান বলেন, বিক্রয় প্রতিনিধিদের ডাক্তারদের সাথে দেখা করার সময় নির্ধারন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অফিস চলাকালিন সময় রোগীর কাছ থেকে (ভিজিট) নেয়া অপরাধ। যদি এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারে। তাহলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।