বুধবার, জানুয়ারী ১৮, ২০১৭ ,৫ মাঘ ১৪২৩
২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ বৃহস্পতিবার , ৭ : ৩৩ অপরাহ্ন

  • নাসিকে ‘ধানের শীষ’ ডুবিয়ে প্রতিশোধ নিলেন তৈমূর!

    x

    Decrease font Enlarge font

    07টাইমস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের ভরাডুবির নেপথ্য নায়ক হচ্ছেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার-এমনটাই মনে করছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল নেতাকর্মীরা। প্রথম নাসিক নির্বাচনে বিনা গোসলে কোরবানির প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে সাখাওয়াতকে পরাজিত করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা। তৈমূরের ষড়যন্ত্রের নির্মম শিকার সাখাওয়াত তথা ধানের শীষ। আর তাই তৈমূরকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি থেকে চীরতরে বহিস্কারের দাবী জানিয়েছেন তারা।

    ঘটনাসূত্রে প্রকাশ, প্রথম নাসিক নির্বাচনে বিএনপি থেকে সমর্থন জানিয়ে দলীয় মেয়র প্রার্থী করা এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে। নির্বাচনের ঠিক কয়েক ঘন্টা আগে কেন্দ্রর নির্দেশে তৈমূরকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে হয়। যা তার ভাষায় ‘বিনা গোসলে কোরবানী’। আর এ কোরবানীর ক্ষত তৈমূরকে কূড়ে কূড়ে খাচ্ছিলো। পাঁচটি বছর এক মুহুর্তের জন্য তিনি তা ভুলতে পারেননি। কিন্তু এই কোরবানির প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছিলেন না তিনি। ২০১১ সালের সে ব্যাথা ভুলবার এবং বিএনপি’র উপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তার কাছে ধরা দেয় ২০১৬ সালের নাসিক নির্বাচনে।

    প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতিকে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রতিক ধানের শীষ পেয়ে তৈমূরের প্রতিশোধ স্পৃহা বেড়ে যায় কয়েকগুন। নিজে প্রার্থী হলে তার প্রতিশোধ নেওয়া সম্ভব হবে না বলে দলীয় সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশ উপক্ষো করে তৈমূর প্রার্থী হতে অস্বিকৃতি জানায়। তৈমূর প্রার্থী হতে না চাওয়ায় নাসিক নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী করা হয় এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে।

    সাখাওয়াতকে দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করায় সোনায় সোহাগা হয়ে যায় তৈমূরের। সাখাওয়াতকে তথা ধানের শীষকে পরাজিত করে তাকে বিনা গোসলে কোরবানীর প্রতিশোধ নিতে তৈমূর কোমর বেঁধে নেমে পরেন। শুরু করেন প্রতিশোধের মিশন। নিজ বলয়ের কিছু চামচিকাদের নিয়ে পর্দার আড়ালে চালিয়ে যান ধানের শীষ বিরোধী ষড়যন্ত্র।

    ৫ ডিসেম্বর নাসিক নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর সাখাওয়াতকে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনায় ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও ধানের শীষের গনসংযোগের কোথাও দেখা মিলেনি তৈমূরের। বরং এ সময়ে তিনি ব্যস্ত থেকেছেন তার মেয়ের বিয়ে এবং টেলিভিশন ‘টক শো’ নিয়ে। সময় টিভির এক টক শো’তে সরকার দলীয় সাংসদ শামীম ওসমান প্রকাশ্যেই বলেন ‘তৈমূর ভাইতো নিজেই ধানের শীষে ভোট দিবেন না”। ১৫ ডিসেম্বর রাতে দলীয় সভানেত্রী তৈমূরকে গুলশানের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে যান এবং নির্বাচন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করে দলীয় প্রার্থীর জন্য প্রচারনায় অংশ নিতে নির্দেশ দেন। ১৬ ডিসেম্বর রাতে তৈমূরের বাসভবনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সকল নেতাদের উপস্থিতিতে নির্লজ্জের মতো তৈমূর বলেন, আগামীকাল থেকে আমি সাখাওয়াতের জন্য প্রচারনা শুরু করবো। আজকেই আমি আমার গাড়িতে সাখাওয়াতের পোষ্টার লাগিয়েছি।

    বেহায়া তৈমূরের এ হাস্যকর বক্তব্যে নিন্দার ঝড় বয়ে যায় সেখানে আগত নেতাকর্মীদের মাঝে। ৫ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারনা শুরু হলেও তৈমূর নাকি প্রচারনা শুরু করবেন ১৭ তারিখ থেকে! যেখানে প্রচারনার শেষ সময় ২০ তারিখ। তখনই সবাই তৈমূরের আসল রূপ বুঝতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের স্বার্থে সে সময় সবাই বিষয়টি চেপে যান।

    ২২ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন স্বরূপে আবির্ভূত হন তৈমূর। ঐ দিন ধানের শীষের সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান নেন এই নেতা। সারাদিন কাটিয়ে দেন নিজের ছোট ভাই ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নির্বাচনী কাজে। সকালে আদর্শ স্কুলে ধানের শীষের প্রার্থীর সাথে ফটোসেশনের পর আর প্রার্থীর সাথে তাকে দেখা যায় নি। বরং খোরশেদের নির্বাচনী ৫টি কেন্দ্রে সময় ব্যয় করে ছোট ভাইকে পাশ করিয়ে আনেন তিনি। অথচ যে কেন্দ্রগুলোতে তার ছোট ভাই খোরশেদ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন, সে কেন্দ্রগুলোতেও ধানের শীষের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হন। আর এভাবেই বিএনপি’র প্রতি পাঁচ বছরের পুঞ্জিভুত প্রতিশোধের নেশা সুদে আসলে উসুল করেন তৈমূর। তৈমূরের প্রতিশোধের আগুনে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যায় ধানের শীষ!

    দলীয় প্রতিক ধানের শীষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তৈমূরকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সকল পদ থেকে বহিস্কার করার দাবী এখন সময়ের প্রয়োজন হয়ে দাড়িয়েছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল নেতাকর্মীরা। কারন হিসেবে তারা মনে করেন, তৈমূরের মতো বিষধর কাল সাপকে দুধ কলা দিয়ে পুষে রাখা হলে যে কোন সময় আরো বড় কোন ছোবল দিয়ে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র অস্তিত্ব বিপন্ন করে দিতে পারে। তাই এখনই সময়, এই কালসাপের বিষদাঁত ভেঙ্গে ফেলার।