বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৭ ,৯ ফাল্গুন ১৪২৩
৩০ ডিসেম্বর ২০১৬ শুক্রবার , ৮ : ২৯ অপরাহ্ন

  • ডুবন্ত তৈমূরের এখন ‘খড়কুঁটো’ ধরে বাঁচার চেষ্টা!

    x

    Decrease font Enlarge font

    08টাইমস নারায়ণগঞ্জ: সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নিজ দলীয় মেয়র প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দলীয় প্রতিক ধানের শীষের ভরাডুবির নেপথ্য  কারিগর জেলা বিএনপি’র সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকারের সকল গোমড় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূলের সক্রিয় নেতাকর্মীরা তৈমূর বলয় ছাড়তে শুরু করেছেন। ডুবন্ত জাহাজের নাবিকের মতো তৈমূর এখন ‘খড়কুঁটো’ ধরে বাঁচার চেষ্টা করছেন। তার আশেপাশে তার পরিবারের লোকজন আর তৃণমূলের ভাষায় ‘ডেট ফেল’ কিছু নেতা ছাড়া আর কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন গর্তে লুকিয়ে থাকা এসব নিস্ক্রিয় নেতাকর্মীদের দিয়ে তৈমূরের শেষ রক্ষা হবে না বলে মনে করছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। তাদের মতে, তৈমূরের মতো বিশ্বাসঘাতককে আর সুযোগ দেয়া ঠিক হবে না। তারা তৈমূরমুক্ত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি চায়।

    জানা যায়, প্রথম নাসিক নির্বাচনে বিএনপি থেকে সমর্থন জানিয়ে দলীয় মেয়র প্রার্থী করা এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে। নির্বাচনের ঠিক কয়েক ঘন্টা আগে কেন্দ্রর নির্দেশে তৈমূরকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে হয়। যা তার ভাষায় ‘বিনা গোসলে কোরবানী’। আর এ কোরবানীর ক্ষত তৈমূরকে কূড়ে কূড়ে খাচ্ছিলো। পাঁচটি বছর এক মুহুর্তের জন্য তিনি তা ভুলতে পারেননি। এবং এই কোরবানির প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন তিনি।  ২০১১ সালের সে ব্যাথা ভুলবার এবং বিএনপি’র উপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তার কাছে ধরা দেয় ২০১৬ সালের নাসিক নির্বাচনে।

    তৈমূরকে নাসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে প্রস্তাব দেয়া হলেও তিনি তাতে রাজি হননি। তাই দলীয় প্রার্থী করা হয় এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে। সাখাওয়াতকে দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করায় সোনায় সোহাগা হয়ে যায় তৈমূরের। সাখাওয়াতকে তথা ধানের শীষকে পরাজিত করে তাকে বিনা গোসলে কোরবানীর প্রতিশোধ নিতে তৈমূর কোমর বেঁধে নেমে পরেন। শুরু করেন প্রতিশোধের মিশন। নিজ বলয়ের কিছু চামচিকাদের নিয়ে পর্দার আড়ালে চালিয়ে যান ধানের শীষ বিরোধী ষড়যন্ত্র। আর তার ষড়যন্ত্রের কারনে সুষ্ঠ নির্বাচনের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে না পেরে বিপুল ভোটে পরাজিত হতে হয় সাখাওয়াতের ধানের শীষকে।

    এদিকে নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের কাছে তৈমূরের চক্রান্ত ধরা পরে গেলে তৈমূর বলয় ছাড়তে শুরু করেন তারা। বর্তমানে সক্রিয় কোন নেতাকর্মীদের আর তার কাছে দেখা যাচ্ছে না। যারা আছেন তারা সব ঝড়া পাতা! নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকে তৈমূরের ডাকে গর্ত থেকে বের হয়েছেন। আর তাই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল উপহাস করে বলছে ‘ ডুবন্ত তৈমূর এখন খড়কুটো ধরে বাঁচার চেষ্টা করছেন’!