বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৭ ,৪ কার্তিক ১৪২৪
৩০ ডিসেম্বর ২০১৬ শুক্রবার , ৮ : ৩৩ অপরাহ্ন

  • এবার ‘ক্রেডিট’ নিবেন কে ‘এমপি নাকি মেয়র’

    x

    Decrease font Enlarge font

    06টাইমস নারায়ণগঞ্জ: অবশেষে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতু। নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন শীতলক্ষ্যা সেতু বাস্তবায়নের ক্রেডিট কার ঘরে যাচ্ছে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে নগরবাসীর মনে। শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণের লক্ষে মূলত ক্রেডিট কে পাচ্ছেন, নব নির্বাচিত মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী নাকি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান-তা নিয়ে এখন নগরবাসীর মনে নতুন করে জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

    ঘটনাসূত্রে প্রকাশ, সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে মেয়র প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রচার প্রচারনা ও প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ। সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াত আইভী, বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খানসহ সকল মেয়র প্রার্থী তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাধাণ্য দিয়েছেন শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণকে।

    প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতিকে নাসিক মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ডা: সেলিনা হায়াত আইভী গনভবনে প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে গিয়ে নেত্রীর কাছে শীতলক্ষ্যা সেতু দাবী করেন। আবেগাপ্লুত আইভী মাতৃতুল্য নেত্রী প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের জন্য আকুতি জানান। নগরবাসীও এই সেতু বাস্তবায়নে আইভীর দিকে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে আছে, তাদের ভোটে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হওয়া আইভী কি পারবেন তার নেত্রীর কাছ থেকে শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মানের অঙ্গিকার নিয়ে আসতে!

    নতুন বছরের শুরুতে ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলে, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরনের ক্রেডিট কে নেবেন তা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দে নারায়ণগঞ্জবাসী! কারন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান দাবী করছেন, তিনি তার প্রয়াত বড় ভাই একই আসনের সাবেক সাংসদ একেএম নাসিম ওসমানের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে আগামী বছরের প্রথম মাসের প্রথম সপ্তাহেই সেতু নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করাতে পারবেন। বৃহস্পতিবার সাংসদের পক্ষ থেকে গনমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এমনটাই বলা হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান। গত ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি মারা গেলে তার শূন্য আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হয়ে আসে তার ছোট ভাই সেলিম ওসমান। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহনের পর সেলিম ওসমান নাসিম ওসমানের অসম্পন্ন থাকা স্বপ্নকে বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসছিলেন। ফল প্রসূত ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা তৃতীয় সেতুর ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় উপস্থিত জনপ্রতিনিধি এবং আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা শীতলক্ষ্যা সেতুটি প্রয়াত নাসিম ওসমানের নামে নাম করনের দাবি করে ছিলেন।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বৈদেশিক অর্থায়ন না পাওয়া, প্রকল্প পরিচালক বদলি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা ও রেলওয়ের জমি না পাওয়ার কারণে ৭ বছরে নারায়ণগঞ্জবাসীর বহুল প্রত্যাশিত শীতলক্ষ্যায় তৃতীয় সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছিল মাত্র ২১ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের প্রচেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বপ্নের এ সেতুর জট খুলেছে। পাওয়া গেছে সৌদি উন্নয়ন তহবিলের (এসএফডি) ৩৩২ কোটি টাকা ঋণ। এখন ২০২০ সালের আগেই সেতুটি নির্মিত হবে।

    শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম প্রান্তে সৈয়দপুর ও পূর্ব প্রান্তে মদনগঞ্জ সংযোগ করে চারলেন বিশিষ্ট সেতু নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌদি আরবের আর্থিক অনুদানে নির্মিত সেতুটি ১ হাজার ২৯০ মিটার দীর্ঘ। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। তবে ২০২০ সালের আগেই শীতলক্ষ্যা নদীর উপরে তৃতীয় সেতু নির্মাণ করা হবে বলে জানায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। যেহেতু এসএফডি ঋণ পাওয়া গেছে এখন আর সেতুটি নির্মাণে কোনো বাধা নেই বলে জানা গেছে।

    একই সেতু বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পূরণের দাবীদার দুই জনপ্রতিনিধির ক্রেডিট নেওয়ার প্রতিযোগিতায় তাই সংশয় সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে। তারা মনে করেন, নাসিম ওসমানের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে সেলিম ওসমানের চেষ্টায় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মিত হলে তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি কিভাবে দেন মেয়র আইভী! তাহলে কি তিনি আরেকটি শীতলক্ষ্যা সেতু নারায়ণগঞ্জবাসীকে উপহার দিতে চলেছেন, নাকি অন্যের চেষ্টায় গড়ে উঠা স্থাপনায় নিজের কর্তৃত্ব জাহিরের চেষ্টা করবেন-সে প্রশ্ন এখন নগরবাসীর মুখে মুখে।