শনিবার, মে ২৭, ২০১৭ ,১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪
০৩ জানুয়ারী ২০১৭ মঙ্গলবার , ১০ : ০০ অপরাহ্ন

  • বাবুরাইলে ইয়াবা তৈরীর কারখানা আবিস্কার, গ্রেফতার ৩ ॥ সুমনকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ!

    x

    Decrease font Enlarge font

    Times-7টাইমস নারায়ণগঞ্জ: পাশ্ববর্তি দেশ মায়ানমার থেকে মরণ নেশা ইয়াবা আনার ক্ষেত্রে আইনশৃংখলা বাহিনীর নানান ঝামেলে এড়াতে এবার নিজ বাড়ীতে ইয়াবা তৈরীর কারখানা স্থাপন করলেও শেষ রক্ষা হলো না আমজাদ, সামিউল ও রাজেশ শ্যামের। ধরা পরতো হলো নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের হাতেই। ৫০ হাজার পিছ ইয়াবা তৈরীর ১৭ ধরণের ক্যামিকেল, মেশিন সহ এমন কারখানা উদ্ধাবের ঘটনায় গতকাল বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ইয়াবা তৈরীর কারখানা উদ্ধারসহ তিন জনকে গ্রেফতার করলেও ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে কারখানার মূল মালিক হত্যাসহ অসংখ্য মামলার আসামী সুমন ওরফে বদু সুমনকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বদু সুমনকে ছেড়ে দিতে মঙ্গলবার মধ্যরাত ১টা থেকে ভোররাত সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলে দর কষাকষি। এরপর ভোরের আলো উঠার আগেই পাশ্ববর্তি দেয়াল টপকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে ডিবি পুলিশের কয়েকজন দারোগা।

    সংবাদ সম্মেলন থেকে জানা যায়,  জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা এলাকার ৩৬৫/২দেওভোগ ওয়েস্ট রোডস্থ বাবুরাইল তাতীপাড়ার বাড়ীতে হানা দিয়ে দারোগা মাজারুল ইসলাম, মিজান, আবু সায়েমসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ইয়াবা তৈরীর কারখানা উদ্ধার করে । এ সময় বাড়ীর মালিক মৃত আবেদ আলীর ছেলে আমজাদ (৪০) ও দুই কারিগর সামিউল, রাজেশ শ্যামকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় ২৫০ পিছ তৈরীকৃত ইয়াবা। এ সময় ইয়াবা তৈরীর ১৭ ধরণের ক্যামিকের ও একটি ডাইস উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। নারায়ণগঞ্জে এই প্রথম ইয়াবা তৈরী করার কারখানাসহ তিন জনকে আটকের ঘটনা পুলিশ বাহিনীর মাঝে চাঞ্চল্যের সৃস্টি হয়েছে ।

    সংবাদ সম্মেলনের পর বাবুরাইল তাতীপাড়ার কয়েকজনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একদিকে বদু সুমন ও তার বাহিনী যেমন ভয়ংকর। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহসও করে না । অকেদিন যাবৎ এই কারখানা চলে আসছে । সকলেই জানলেও কেউ কথা বলে না ।  মূলতঃ এই কারখানাটি পরিচালনা করতো বদিউজ্জামান বদুর ছেলে সুমন রওফে বদু সুমন। তার নামে অসংখ্য মামলা থাকলেও পুলিশ ম্যানেজ করে বারবারই ছাড়া পায় সুমন। সোমবার রাত ১২ টা থেকে ইয়াবা তৈরী করতে বদু সমন, আমজাদসহ আরো দুইজন ঘরে প্রবেশ করে গেইট লাগিে দেয় । রাত ২টার সময় এলাকাবাসী চিৎকার চেচামিচি শুনে আমজাদের বাড়ীতে এলে চারজনকেই আটক করতে দেখা যায়। এরপর আড়ালে গিয়ে অসংখ্যবার পুলিশ ও সুমনের স্ত্রী পকেটমার ও সোর্স রোজি কথা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে ভোর সাড়ে ৫ টায় নানাভাবে ম্যানেজ করে রোজি ৫ লাখ টাকা দেওয়ার পর সুমনকে বাড়ীর পিছনের দেয়াল টপকে পালিয়ে যেতে সুযোগ করে দেয় ডিবি পুলিশের সদস্যরা। পরবর্তিতে তিন জনকে গ্রেফতার করে এবং অনেক ক্যামিকেল ও ইয়াবা তৈরীর মেশিনও দেখায় পুলিশের সদস্যরা।