বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৭ ,৯ ফাল্গুন ১৪২৩
০৪ জানুয়ারী ২০১৭ বুধবার , ৭ : ৪৯ অপরাহ্ন

  • ভুলে ভরা নতুন পাঠ্যবই, নারায়ণগঞ্জে সমালোচনা

    x

    Decrease font Enlarge font

    07টাইমস নারায়ণগঞ্জ: ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে নতুন বছরের প্রথম দিন প্রত্যেক স্কুলে বই উৎসব উদযাপিত হলেও এবার ভুলে ভরা নতুন পাঠ্যবই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    প্রথম শ্রেণীর বাংলা বইয়ের লেখা ও ছবিতে ‘ছাগল গাছে উঠে আম খাচ্ছে’। অষ্টম শ্রেণীর আনন্দ পাঠে বিদেশী গল্পের অনুবাদ। বানান ভুল। এসবই নতুন ২০১৭ শিক্ষাবর্ষের বোর্ডের পাঠ্যবইয়ে আছে। শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়ার চারদিন না পেরোতেই নতুন পাঠ্যবইয়ের এমন নানা ভুল চোখে পড়েছে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষের।

    আর বর্তমান সময়ে তথ্য বিনিময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তা তুলে ধরতেও দেরি করছেন না কেউ। ভুলের সঙ্গে ফেসবুক স্ট্যাটাসে দিয়ে দিচ্ছেন নিজের মত করে, বইছে সমালোচনার ঝড়।

    গত রবিবার (১ জানুয়ারী) বই উৎসবে প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রায় ৭ লাখ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর হাতে ৫৫ লাখ নতুন বই তুলে দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

    বই উৎসবে নতুন বইয়ের ঘ্রানে উচ্ছেসিত হয়ে উঠেছিল শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বাড়ীতে গিয়ে যখন বইয়ে ভুল দেখে, তখন কিছুটা ভীষণœ হয়ে পড়ে তারা।

    গত ৪ দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন এই পাঠ্যবই নিয়ে বেশ কিছু তথ্য ও মত দেন অভিভাবকরা।

    সুলতান মাহমুদ নামে একজন অভিভাবক তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, ‘ছাগল গাছে উঠে আম খাচ্ছে!’ প্রথম শ্রেনীর বইয়ে এ লেখা ও ছবি দেখে মনে হচ্ছে শিক্ষার মান বেড়েছে বলেই ছাগল গাছে উঠতে পেরেছে। কোন জাতের লেখাপড়া জানা লোকজন এ জাতের বই প্রণয়ন করে?’

    এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বলেন, শিক্ষাক্রম নতুন করে সংশোধন ও পরিমার্জন করার পর ২০১৩ সাল থেকে প্রথম শ্রেণীতে বাংলা পাঠ্যবইটির ১১ পাতায় অ-তে অজ (ছাগল) বোঝাতে গিয়ে এই ছবিটি আছে। আমরাও এটি পড়িয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ছবিটি ভুল। কারণ ছাগল গাছে উঠে আম খায় না। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। বোর্ড থেকে যেভাবে দেবে সেভাবেই আমরা শিক্ষকরা পড়াই। এটি পান্ডুলিপি যারা তৈরি করেছেন তাদের যেমন ভুল, তেমনি যারা পান্ডুলিপিটি পরীক্ষা ও নিরীক্ষা করেছেন তাদেরও ভুল। নিরীক্ষকরা পাঠ্যবইয়ের পান্ডুলিপি পড়ে দেখেন বলে মনে হয় না। যার কারণে পাঠ্যবইয়ে অনেক ভুল থাকে। এই বই তৈরীর পেছনে সরকারের অনেক অর্থ অপচয় হয়।

    আহমেদ ফয়েজ নামে একজন অষ্টম শ্রেণীর আনন্দপাঠ বইটির প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র তুলে ধরে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘খালি বিদেশী টিভি সিরিয়ালেই সমস্যা! এই যে বইটি, অষ্টম শ্রেণীর আনন্দপাঠ। এখানে সবগুলো গল্প বিদেশী গল্প থেকে অনূদিত। এসবের জন্য কি কোনো প্রতিবাদ হবে!!!’

    অষ্টম শ্রেণীর আনন্দপাঠ বইটির সূচীপত্রে দেওয়া সাতটি গল্পের সবগুলোই বিদেশী লেখকদের গল্প, উপন্যাস অবলম্বনে লেখা বা ভাষাগত রূপান্তর করা হয়েছে। গল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-আরব্য উপন্যাস অবলম্বনে ‘কিশোর কাজী’, মার্ক টোয়েনের ‘রাজকুমার ও ভিখারীর ছেলে’, ড্যানিয়েল ডিফোর ‘রবিনসন ক্রুশো’, ফরাসী উপন্যাসিক মহাকবি আবুল কাশেম ফেরদৌসীর ‘সোহরাব রোস্তম’, উইলিয়াম শেকসপিয়ারের ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’, ওয়াশিংটন আরবি রচিত গল্প অবলম্বনে ‘রিপভ্যান উইংকল’ এবং লেভ তলস্তয়ের ‘সাড়ে তিন হাত জমি’।

    এদিকে প্রথম শ্রেণীর বাংলা বইয়ে বর্ণ পরিচয়ে ‘ও’-তে ‘ওড়না চাই’ বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নানা মন্তব্য করেছেন। এর মধ্যে তারিফুল ইসলাম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ সম্পর্কে মন্তব্যের পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের বানান ভুলের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।

    তিনি লিখেছেন, ‘কোথায় যেন পড়েছিলাম, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে চাও? তাহলে তার প্রাথমিক শিক্ষায় ভুল ঢুকিয়ে দাও। প্রথম শ্রেণীর বর্ণ পরিচয়ে ‘ও’-তে বলা হয়েছে ওড়না চাই। পঞ্চম শ্রেণীর বইয়ে দেখলাম ঘোষণা বানান ঘোষনা, সমুদ্র বানান সমুদ। আর বললাম না।’

    তবে সুদ্ধ ভাবে নতুন বই তৈরীর ক্ষেত্রে সরকার আরো নজর বৃদ্ধি করবে বলে প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন নারায়ণগঞ্জে অভিভাবকবৃন্দ। নাহলে শিক্ষিত জাতি গঠনে এর প্রভাব পড়বে।