বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৭ ,৪ কার্তিক ১৪২৪
০৬ জানুয়ারী ২০১৭ শুক্রবার , ৯ : ১৯ অপরাহ্ন

  • হকারদের সাথে প্রশাসনের ‘ইদুর বিড়াল’ খেলার অবসান চায় নগরবাসী

    x

    Decrease font Enlarge font

    T-3টাইমস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে ফুটপাতের হকারদের সঙ্গে প্রশাসনের ইদুর বিড়াল খেলার শেষ দেখতে চায় নগরবাসী। ঢাক ঢোল পিটিয়ে প্রশাসনের লোকজন ফুটপাত হকারমুক্ত করে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আবার হকাররা যে যার অবস্থানে বসে যায়। দীর্ঘদিন যাবত চলে আসা এ নাটকের অবসান ঘটিয়ে পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য নব নির্বাচিত সিটি মেয়র ও প্রশাসনের দৃষ্টি আ্কর্ষণ করেছে নারায়ণগঞ্জবাসী।

    ঘটনাসূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নং রেল গেইট থেকে বিবি রোড হয়ে চাষাঢ়া পর্যন্ত এবং ২ নং রেল গেইট থেকে সিরাজদৌলা রোড হয়ে চারারগোপ পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত জুড়ে বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে থাকেন হকাররা। ফুটপাত পথচারীদের পায়ে হেটে চলাচলের জন্য নির্মিত হলেও সেখানে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছে হকাররা। আর তাদের পেছনে থেকে কলকাঠি নাড়ছে একটি প্রভাবশালী মহল। শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন প্রচুর চেষ্টা করলেও তা সফলতার মুখ দেখেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায়ই লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের কয়েক ঘন্টা পর আবারো হকারদের দখলে চলে যায় শহরের ফুটপাতগুলো। এখনতো অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে যে, ফুটপাত দখলের পর হকাররা শহরের রাস্তা দখল করে তাদের ব্যবসা বিস্তার করছে। ফলে শহরের রাস্তাগুলোতে নিয়মিতভাবে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের।

    বিগত রমজান মাসের প্রাক্কালে প্রসাশন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে শহরের সকল ফুটপাত হকারমুক্ত করা হয়। এ সময় হকাররা নানা আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের নির্দেশে শুধুমাত্র রমজান মাসে ব্্যবসা করার অনুমতি পায়। কিন্তু রমজান মাস চলে গেলেও বহাল তবিয়তে থেকে যায় হকাররা। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চললেও তা ছিলো সাময়িক কয়েক ঘন্টার জন্য। স্থায়ী কোন সমাধান এখনো পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

    শহরের মিশনপাড়ার জনৈক অধিবাসী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, পুলিশের লোক দেখানো উচ্ছেদ আমরা বুঝে গেছি। কারন পুলিশ নিজেরাই ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলে। তাই তারা কোনদিনও স্থায়ীভাবে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করবে না। আমরা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর কাছে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান আশা করছি।

    কালীরবাজারের জনৈক অধিবাসী জানান, সবাই হকারদের উচ্ছেদের কথা বলে কিন্তু কেউ তাদের পুনর্বাসনের কথা বলে না। হকাররা কেউতো অবৈধ কোন ব্যবসা করছে না। পেটের দায়ে এসব অভাবী লোকগুলো ফুটপাতে বসে রুটি রুজির ব্যবস্থা করছে। আর ফুটপাতের হকাররা আছে বলেই আমাদের মতো নি¤œ আয়ের লোকেরা সামর্থ অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারছি। নাহলে উচ্চ মূল্যের বিপণী বিতানগুলোতে গিয়ে কেনাকাটা করা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে পরবে। তাই ফুটপাত থেকে হকারদের তুলে দিয়ে অন্যত্র বসার ব্যবস্থা করা উচিত। কিন্তু পুলিশ কোনদিনই তা করবে না। কারন ফুটপাত থেকে তাদের বিশাল অংকের মাসোহারা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ফুটপাত যেমন পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করতে হবে, তেমনি হকারদেরও সঠিকভাবে পুনর্বাসন করতে হবে।

    বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে ওই সময়ে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সিটি করপোরেশন শহরের প্রধান প্রধান সড়কে ফুটপাতে হকারগিরি করছেন এমন ৬৭৫ জনের একটি তালিকা করে। পরে তাদেরকে শহরের চাষাঢ়ায় খাজা সুপার মার্কেটের পাশে সিটি করপোরেশনের জায়গাতে ‘হকার্স মার্কেট’ তৈরি করে পুনর্বাসন করা হয়। তবে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেই ধীরে ধীরে আবারও শহরের ফুটপাত হকাররা দখল করতে শুরু করে।