বুধবার, জানুয়ারী ১৮, ২০১৭ ,৫ মাঘ ১৪২৩
০৮ জানুয়ারী ২০১৭ রবিবার , ৮ : ১০ অপরাহ্ন

  • কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শদাতা তৈমূরই ছিলেন লাপাত্তা!

    x

    Decrease font Enlarge font

    04টাইমস নারায়ণগঞ্জ: টাইমস নারায়ণগঞ্জ: কর্মসূচী দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঠে থাকার পরামর্শ দিয়ে পরামর্শদাতা জেলা বিএনপির সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার খোদ নিজেই অনুপস্থিত থাকলেন রবিবারের বিক্ষোভ সমাবেশে। সমাবেশের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের ভয়ে লেজ গুটিয়ে গর্তেই ঢুকে রইলেন এ সুযোগ সন্ধানী নেতা।

    ঘটনাসূত্রে প্রকাশ, ৫ জানুয়ারী ‘গনতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে সারাদেশে পতাকা মিছিলের ডাক দেয় বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঐদিন ডিআইটির দলীয় কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা মিছিল করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এই মিছিলে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। তাতে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়। নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদসহ চার নেতাকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মুচলেকা দিয়ে তাদের মুক্ত করা হয়। সেই মিছিলে অনুপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার। পরে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে যান তৈমূর। কিন্তু পুলিশের ভয়ে সেখানেও বেশীক্ষণ থাকেননি তিনি। যা সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে বিষ্মিত করেছে। জেলার নেতাকর্মীদের অভিভাবক হয়ে তিনি কি করে আহত নেতাকর্মীদের ফেলে হাসপাতাল থেকে পলায়ন করলেন, সে প্রশ্ন ছিলো সকলের মুখে মুখে।

    ৫ জানুয়ারী সারাদেশে কালো পতাকা মিছিলে বাঁধা এবং হামলার প্রতিবাদে ৮ জানুয়ারী দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালন করবেন কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তৈমূর বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা কর্মসূচীর ডাক দিয়ে নিজেরা মাঠে নামে না। আমরা মাঠে নেমে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হই। কেন্দ্রীয় নেতাদেরও উচিত রাজপথে নেমে কর্মসূচী পালন করা। তবে কৌশল পরিবর্তন করে আমরা অবশ্যই মাঠে থাকবো।

    কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঠে থাকার পরামর্শ দিয়ে এবং নিজে মাঠে থেকে কর্মসূচী পালনের ঘোষনা দিলেও কথা কাজে মিল রাখেননি তৈমূর। এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, এটিএম কামাল, আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করলেও পুলিশের ভয়ে গর্ত থেকে বের হননি তৈমূর আলম।

    রবিবারের কর্মসূচী শেষে জনৈক বিএনপি কর্মী তাই ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, গত ১০ বছরে কয়বার গ্রেফতার হয়েছেন তৈমূর, কয়দিন জেল খেটেছেন! অথচ আমাদের মতো সাধারণ নেতাকর্মীরা দলের স্বার্থে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে পুলিশের হামলা মামলায় জর্জরিত হয়ে গেছি। মুখে বড় বড় কথা বলে কাজে পরিনত না করার অভ্যাসের কারনে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়তার তলানিতে এসে পৌঁেছছেন তৈমূর। জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটিতে তাকে ছেটে ফেলে সর্বহারা করার সকল প্রক্রিয়া শেষ করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র অভিভাবক নিজেই অভিভাবকহীন হয়ে যাচ্ছেন তার কৃতকর্মের জন্য।

    এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার টাইমস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, শুধু আমাকেই উপস্থিত থাকতে হবে নাকি, আমি ছাড়া কি আর কোন নেতা নেই। কৌশলগত কারনে আমি কর্মসূচীতে আসিনি।