বুধবার, মে ২৪, ২০১৭ ,৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪
০৮ জানুয়ারী ২০১৭ রবিবার , ৮ : ২৩ অপরাহ্ন

  • বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ঢাকায় যাচ্ছে না.গঞ্জ আ.লীগ

    x

    Decrease font Enlarge font

    07টাইমস নারায়ণগঞ্জ: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গত ৫ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ‘গণতন্ত্র বিজয় দিবস’ উদযাপনে ব্যর্থ হলেও আগামী ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালনে ব্যাপক নিচ্ছে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ।

    মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারী) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। এলক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্র্মীদের সাথে চলছে আলোচনা।

    এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই টাইমস নারায়ণগঞ্জকে জানান, আগামী ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সমাবেশে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই প্রত্যেক থানা কমিটিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ব্যাপক পরিসরে নারায়ণগঞ্জ থেকে দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকায় সমাবেশে যোগ দেয়া হবে।

    আর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব অনোয়ার হোসেন জানান, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে নারায়ণগঞ্জে তেমন আয়োজন করা না হলেও ঢাকায় সমাবেশে যোগ দিবে মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। ব্যাপক পরিসরে লোকসমাগম ঘটাতে দলীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে অলোচনা চলছে।

    প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বিজয় অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে রক্তস্নাত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলা-দেশের মাটিতে পা রাখেন।

    জীবন-মৃত্যুর কঠিন চ্যালেঞ্জের ভয়ঙ্কর অধ্যায় পার হয়ে সারা জীবনের স্বপ্ন, সাধনা ও নেতৃত্বের ফসল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মহান এ নেতার প্রত্যাবর্তনে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় পূর্ণতা পায়। জাতির পিতা তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেছিলেন 'অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা।'

    ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়েছিলেন 'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণার পর ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। 'অপারেশন সার্চলাইট' নামের এ অভিযানের শুরুতেই পাক হানাদাররা বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসা থেকে বন্দী করে নিয়ে যায়। গ্রেফতারের আগ মুহূর্তে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে যান বঙ্গবন্ধু।

    গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী করা হলেও তাঁর অনুপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর নামেই চলে মুক্তিযুদ্ধ। বাঙালি যখন প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলেছে, বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামী হিসাবে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। কারাগারে বঙ্গবন্ধুর সেলের পাশে তাঁর জন্য কবর পর্যন্ত খোঁড়া হয়েছিল।

    বাঙালি জাতির মহান এক বিজয়ের ফলেই বঙ্গবন্ধু নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ফিরে আসেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর লন্ডন-দিল্লি হয়ে তিনি ঢাকায় পৌঁছেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী।