মঙ্গলবার, মার্চ ২৮, ২০১৭ ,১৩ চৈত্র ১৪২৩
০৮ জানুয়ারী ২০১৭ রবিবার , ৮ : ২৭ অপরাহ্ন

  • ‘২০১৬’তে ক্রস ফায়ার ১৫১, ধর্ষণের শিকার ৭৫৭’

    x

    Decrease font Enlarge font

    11টাইমস নারায়ণগঞ্জ: গত বছর দেশে (২০১৬) ক্রসফয়ারে নিহত হয়েছে ১৫১ জন। গুমের শিকার ৯০ জন। কারাগারে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৩ ও নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৫৭ জন নারী ও শিশু। ৫৩ জন সাংবাদিক আক্রমনের শিকার হয়েছে। এবং লাঞ্ছিত হয়েছে ১৬ জন। এসিড সহিংসতার শিকার হয়েছে ৪০ জন। যৌন হয়রানীর শিকার হয়েছে ২৭১ জন। যৌতুক সহিংসতার শিকার হয়েছে ২০৬ জন নারী। গণপিটুনীতে নিহত হয়েছে ৫৩ জন। এছাড়া গত বছর রাজনৈতিক সহিংসতায় বিশেষ করে আওয়ামীলীগের অন্তর্দলীয় সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ৭৩ জন ও বিএনপির অন্তর্দলীয় সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ৩ জন।

    রোববার সকালে শহরের কলেজ রোড এলাকায় মানবাধিকার সংগঠন অধিকার নারায়ণগঞ্জ ইউনিটির মাসিক সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

    অধিকার ২০১৬ সালের জানুয়ারী থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। অধিকার তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ২০১৩ সাল থেকে চরম রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও হয়রানির সম্মুখিন হচ্ছে। রাষ্ট্রের ক্রমাগত হয়রানি ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও অধিকার ২০১৬ সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করলো। অধিকার দেশী-বিদেশী সমস্ত মানবাধিকার কর্মী ও সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে, যাঁরা মানবাধিকার কর্মকা- চালিয়ে যাওয়ার পেছনে সহযোগিতা করেছে এবং অধিকার এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। এই ধরনের সহযোগিতা ও সংহতি অধিকার এর মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে আরো শক্তিশালী করেছেন।

    অধিকার নারায়ণগঞ্জ ইউনিটির সমন্বয়ক সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অধিকারেরকর্মী এম কবির ইউ চৌধুরী, এনামুল হক প্রিন্স, মোঃ জসিম উদ্দিন, রাজিয়া সুলতানা শিশির, আশরাফ সিদ্দিকি দুপুর, ছিফায়েত উল্লাহ মাসফি, মোঃ কায়কোবাদ, তাছলিমা আক্তার আখি, বিভিন্ন কলেজ বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান, সাইফুল ইসলাম, সুমাইয়া আক্তার, সিনথিয়া আক্তার, উম্মে হাফসা নিলয়, আজিজ হোসাইন সাগর, ফটো সাংবাদিক সবুজ প্রমুখ।

    সভায় বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠ করেন অধিকার নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের সমন্বয়ক বিল্লাল হোসেন রবিন। সভায় জানানো হয়, ২০১৬ সালে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও দায়মুক্তির কারণে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, অবৈধ আটকাদেশ এবং কারাগারে মৃত্যুর অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অমানবিক আচরণ ও জবাবদিহিতার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

    দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হলেও ২০১৬ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সনদের অনুচ্ছেদ ৬ এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের বিষয়ে ভিকটিম পরিবারগুলোর ব্যাপক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই ঘটনাগুলোকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ক্রসফায়ার হিসেবে প্রকাশ করছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়মুক্তি ভোগ করছে। নিহতদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অপরাধমূলক ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন অভিযুক্ত মূল ব্যক্তিদেরও আইন-আদালতের প্রক্রিয়ায় না এনে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ক্রসফায়ার এর নামে হত্যা করা হয়েছে। এরফলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা যায়নি বা মূল ব্যক্তিদের আড়াল করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    প্রসঙ্গত ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে গত ২২ বছর ধরে অধিকার জনগণের নাগরিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। অধিকার মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রতি মাসেই মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। একটি মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে অধিকার রাষ্ট্রের হাতে সংঘটিত সমস্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার এর বিষয়ে প্রচারাভিজান চালানো, প্রতিবাদ জানানো এবং রাষ্ট্রকে মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে বিরত রাখবার জন্য সব সময়ই সচেষ্ট থেকেছে। অধিকার দলমত নির্বিশেষে মানবাধিকার লংঘনের শিকার ভিকটিমদের পাশে দাঁড়ায় এবং অধিকার বিশ্বাস করে ভিকটিমদের নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচার লাভ তাঁদের প্রাপ্য।