বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৭ ,৯ ফাল্গুন ১৪২৩
১০ জানুয়ারী ২০১৭ মঙ্গলবার , ৮ : ১৭ অপরাহ্ন

  • শাস্তি স্বরূপ ‘পদচ্যুত’ হচ্ছেন তৈমূর-কালাম!

    x

    Decrease font Enlarge font

    04টাইমস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ‘ধানের শীষে’র পক্ষে ঠিকভাবে কাজ না করার শাস্তি হিসেবে এবার জেলা ও মহানগর কমিটি থেকে ‘পদচ্যুত’ হচ্ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালাম!

    কেন্দ্রীয় সূত্রে জানাগেছে, গত ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের পক্ষে প্রচারনায় মাঠে নামলেও তৈমূর-কালাম মূলত নিজেদের পরিবারের সদস্যদের কাউন্সিলর নির্বাচিত করার লক্ষেই কাজ করেছিলেন।

    যেই কারনে তৈমূরের ভাই মহানগর যুবদল আহবায়ক মাকুসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও ফসকে যান কালাম পুত্র মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা। আর সেই সাথে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নিজ ভোট কেন্দ্রসহ আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর কাছে হেরে যান ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খান।

    তারপর থেকেই সমালোচিত হতে থাকেন জেলা ও মহানগর বিএনপির শীষ এই দুই নেতা। সাখাওয়াতের পরাজয়ের পিছনে সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থীর সাথে আঁতাতেরও অভিযোগ উঠে তাদের বিরুদ্ধে। যেই কারনে কেন্দ্রীয় বিএনপি নাসিক নির্বাচনে পরাজয়ের কারন খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত নেন।

    জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে কোন্দল বিভাজন ভুলে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলেও সাখাওয়াতের পক্ষে প্রচারনায় তৈমূর ও কালামের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহের দানা বেঁধেছিল তৃণমূলের মাঝে। যা নির্বাচনে সাখাওয়াতের পরাজয়ের পরই স্পষ্ট হয়ে গেছে।

    তাই চলতি বছরের জানুয়ারী মাসেই ঘোষিতব্য নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে ‘পদচ্যুত’ করে নতুন সভাপতি হিসেবে বর্তমান সাধারন সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জানকে চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। আর মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে কেন্দ্রে প্রেরিত তালিকায় এড. আবুল কালাম নিজের নাম উল্লেখ করে জমা দিলেও তাকেও এপদে অধিষ্ঠিত না করে সেক্রেটারী হিসেবে তারই তালিকায় থাকা এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে মহানগর বিএনপির সভাপতি করা হচ্ছে।

    বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সম্মতিক্রমে যা কিনা প্রায়ই চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রে জানাগেছে। কারন দলীয় কোন কর্মসূচীতেও তৈমূর এবং কালামের অংশ গ্রহণ না থাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরাও তাদের বিপক্ষে রয়েছেন।

    যদিও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার দাবী করেছেন, তাকে ছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি অন্য কাউকে নেত্রী দিবেন না।