শনিবার, জানুয়ারী ২১, ২০১৭ ,৮ মাঘ ১৪২৩
১০ জানুয়ারী ২০১৭ মঙ্গলবার , ৮ : ১৮ অপরাহ্ন

  • বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে অপবাদ ঘুঁচালো না.গঞ্জ আ.লীগ

    x

    Decrease font Enlarge font

    07টাইমস নারায়ণগঞ্জ: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গত ৫ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ‘গণতন্ত্র বিজয় দিবস’ উদযাপনে ব্যর্থ হলেও ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যাণে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় বিশাল শো-ডাউনের মাধ্যমে যোগ দিয়ে সে অপবাদ ঘুঁচিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ।

    মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারী) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিতে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সমগ্র জেলা থেকে ঢাকায় যায় জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীরা। জেলার প্রতিটি থানা এবং মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী ঢাকার জনসভায় যোগ দেয়।

    প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বিজয় অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বন্দি দশা থেকে মুক্তি পেয়ে রক্তস্নাত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলা-দেশের মাটিতে পা রাখেন।

    জীবন-মৃত্যুর কঠিন চ্যালেঞ্জের ভয়ঙ্কর অধ্যায় পার হয়ে সারা জীবনের স্বপ্ন, সাধনা ও নেতৃত্বের ফসল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মহান এ নেতার প্রত্যাবর্তনে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় পূর্ণতা পায়। জাতির পিতা তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেছিলেন 'অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা।'

    ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়েছিলেন 'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণার পর ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। 'অপারেশন সার্চলাইট' নামের এ অভিযানের শুরুতেই পাক হানাদাররা বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসা থেকে বন্দী করে নিয়ে যায়। গ্রেফতারের আগ মুহূর্তে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে যান বঙ্গবন্ধু।

    গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী করা হলেও তাঁর অনুপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর নামেই চলে মুক্তিযুদ্ধ। বাঙালি যখন প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলেছে, বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামী হিসাবে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। কারাগারে বঙ্গবন্ধুর সেলের পাশে তাঁর জন্য কবর পর্যন্ত খোঁড়া হয়েছিল।

    বাঙালি জাতির মহান এক বিজয়ের ফলেই বঙ্গবন্ধু নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ফিরে আসেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর লন্ডন-দিল্লি হয়ে তিনি ঢাকায় পৌঁছেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী।