রবিবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৭ ,৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
১৬ মে ২০১৭ মঙ্গলবার , ৮ : ২৯ অপরাহ্ন

  • নতুন আতঙ্ক চিকোনগুনিয়া জ্বর!

    x

    Decrease font Enlarge font

    07টাইমস নারায়ণগঞ্জ: রাজধানীসহ সারাদেশে চিকোনগুনিয়া জ্বরের প্রকোপ নিয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও নারায়ণগঞ্জে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের দাবি, ভাইরাসজনিত এ রোগটি আমাদের দেশে সম্ভাবনা নেই। তবে কেউ কেউ বলছেন, দেশের মানিকগঞ্জসহ বেশ কিছু জেলায় এ রোগের দেখা মিলেছে।

    ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে জ্বরাক্রান্ত অনেকেই নতুন এ রোগটির কথা শুনে বেশ বিচলিত। এ জ্বরের এখনো কোনো ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা শুরু হয়নি বলে অনেকেই এ নিয়ে বেশ চিন্তাগ্রস্থ। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এ নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। ডেঙ্গু নিয়েও প্রথমে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছিল, কিন্তু সচেতনতার কারণে এখন তা নিয়ে কেউ বিচলিত হয় না।

    নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন আশুতোষ দাস টাইমস নারায়ণগঞ্জকে জানান, আমাদের দেশে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। রাজধানীতে কয়েকজন রোগীর সন্ধ্যান পাওয়া গেছে এমন খবরের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এটা চিকোনগুনিয়া জ্বর এটা নিশ্চিত নন তিনি।

    বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি এক ধরনের ভাইরাস জ্বর। যার নাম চিকোনগুনিয়া। ডেঙ্গুর মতোই এর লক্ষণ। মশার কামড় থেকেই এই জ্বরের শুরু। চিকোনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে হাড়ে ও গিটে গিটে প্রচন্ড ব্যাথা থাকে। শরীর হয়ে পড়ে প্রচন্ড দুর্বল।’

    তারা আরো জানান, ‘এতে আক্রান্ত হলে মাথা ব্যাথা থাকবে। এক কথায় ডেঙ্গু এবং চিকোনগুনিয়ার লক্ষণ একই রকম। শুধু পার্থক্য হলো ডেঙ্গুতে রক্তের কার্যক্ষমতা কমে যায়। এবং রোগীর ঝুঁকি অনেকটা বাড়ে। সেক্ষেত্রে চিকোনগুনিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কম। জ্বর তিন দিনে সেরে গেলেও, সাত থেকে ১০ দিন পর্যন্ত শরীর দুর্বল ও গিটে গিটে ব্যাথা থাকে।’

    বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, এই চিকোনগুনিয়া জ্বরের এখনো কোনো ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা শুরু হয়নি। আক্রান্তদের প্রাথমিকভাবে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদি ডেঙ্গু জ্বর না ধরা পড়ে তাহলে ‘চিকোনগুনিয়া’ ধরেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।  সাধারণ এই রোগে আক্রান্তদের নাপা অথবা প্যারাসিটামল দেয়া হচ্ছে। এন্টিবায়োটিক খাওয়ার কোনো দরকার নেই। প্রচুর পানি খেতে হবে। সাথে ডাবের পানি পান করা যেতে পারে। লেবুর শরবতও খেতে হবে। সাথে ওর স্যালাইন খেতে পারে।  এবং বিশ্রামে থাকতে হবে।’

    চিকিৎসকরা জানান, এরকম মৌসুমি জ্বর বা ঠান্ডায় ভয়ের কোনো কারণ নেই। এটা খুব স্বাভাবিক বিষয়। ভয় পেয়ে শুধু শুধু এন্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না। জ্বর যদি তিন দিনের বেশ হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

    তাদের মতে,  অতিরিক্ত গরমে শরীরে পানি শুন্যতা দেখা দেয়। তাই বেশি বেশি পানি খেতে হবে। মনে রাখতে হবে যেন ডায়রিয়া না হয়। অতিরিক্ত গরমে ডায়রিয়া হলে বিপদজনক।

    তবে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা (আরএমও) আসাদুজ্জামান টাইমস নারায়ণগঞ্জকে জানান, ঢাকার পাশ্ববর্তী মানিকগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় এর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জে এর সম্ভাবনা কম।

    তিনি জানান, মূলত এর ডায়গোনাইস (রোগ চিহিৃতকরণ) পদ্ধতিটি না থাকায় এ নিয়ে দু:শ্চিন্তা করছেন অনেকে। তবে আমরা সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করছি।