রবিবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৭ ,৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
২৭ মে ২০১৭ শনিবার , ৮ : ১৮ অপরাহ্ন

  • ইস্যু, হিসু এবং স্টাটাস

    x

    Decrease font Enlarge font

    04মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ: আমাকে একজন বলল, ভাই দেশে এতো ঘটনা ঘটে আপনি নীরব থাকেন। স্টাটাসে স্টাটাসে ফেইসবুক ভইরা যায়, আপনার খবর নাই। বললাম, কী হইল! উত্তরে সে চোখ বড় করে বলল- এই যে গ্রিক মূর্তি সরিয়ে নেয়া হলো, শ্যামল কান্তি জেলে গেলো, রফিউর রাব্বী ও সেলিম ওসমানের জামিন হইল। আরো কত কী!

    উত্তরে কী বলব! বললাম, আমার কোন স্টাটাস নাই। আমি মধ্যবিত্ত, এই দেশে এই শ্রেণীরা উচ্চ ও নি¤œ বিত্তের চাপে চ্যাপ্টা হয়ে থাকে। স্টাটাস কখন দিবে!

    উত্তরে সে কইল, দূর ভাই এইডা কোন কথা হইল। আপনে স্টাটাস দিবেন, আমি লাইক দিমু, শেয়ারও করমু।

    এবার আরও ঝামেলায় পড়লাম। বললাম, শোনো- যে স্টাটাস দেয় আর যে লাইক দেয় দু’জনে সমান অপরাধী!

    সে কইল-যে ঘুষ দেয়, আর যে ঘুষ নেয়?

    উত্তর দিতে দেরি দেখে কয়- ভাই ভয় পান? কইলাম কিসের ভয়? সে চোখগুলো দ্রুত নাড়াচাড়া কইরা কয়- হ্যা, ভাই আপনে ভয় পান!

    বুঝলাম উত্তর না দিলে সে আরও কয়েকটা অপবাদ চাপায়া দিবো। তাই বললাম- শোনো ভাই, ভয় নিয়েই তো জীবন। এই যে ধরো, রিক্সার উঠলাম এটা যে কিছুদূর গিয়ে দূর্ঘটনায় পড়বে না তার কোন গ্যারান্টি আছে? রাস্তায় যে বিনাকারণে পুলিশ আটকাবে না তার নিশ্চয়তা আছে!

    সে কইল, ভাই আপনে অপ্রাসঙ্গিক কথা কন কেন! প্রসঙ্গ এড়াইয়া যান। রানিং প্রসঙ্গে আসেন।

    নাছোড়াবান্দার উপর ক্ষেপতে পারি না, খুব ভালবাসে কারণে-অকারণে। ওর ধারণা তাবত জগতের সব জ্ঞান আল্লাহ আমারেই দিছে।

    এবার বেশ ভাব নিয়া কইলাম, শোনো প্রসঙ্গ তো ঘড়ির কাটাঁর মতো, একটার পর একটা আইতেই থাকে। এই যেমন ধরো, তনু হত্যা। কয়দিন আমরা স্টাটাস দিয়া ফেইসবুক ভইরা ফালাইলাম। এরপর আরেকটা, তারও পরে আরেকটা। মাঝখানে আপন জুয়েলার্স, এরপর গ্রিক মূর্তি..। কোনটা স্থির ছিলো?

    এবার সে বেশ ঝামেলায় পড়লো। অনুগত হয়ে বললো- ভাই এইডাও ঠিক কইছেন। কিন্তু তাই বলে তো আর ছাইড়া দেওন যাইবো না। ইস্যুতে একটা স্টাটাস তো দিতেই হবে।

    এবার বুঝলাম, দেশের বুদ্ধিজীবিদের মতো ওর হাতে এখন অনেক সময়। যুক্তি দিয়া নিজেরে বড় করার প্রমাণ করে। প্রতিপক্ষ তাকে সঠিক না মেনে নেওয়া পর্যন্ত ক্ষ্যান্ত হয় না। ছেলেটারও দেখি এই রোগে পাইছে।

    কইলাম- দেখো ভাই, ইস্যুতে ইস্যুতে যদি সবাই স্টাটাস দেয়, পড়বে কে? পাঠক তো দরকার।

    এইবার সে বেশ চাঙা। বলল, এইডা কোন কথা ভাই! আপনি দেখি দিন দিন ব্যাকডেটেড হয়ে যাচ্ছেন!

    বললাম, কেমন? সে কইলো, দেখেন কাল রাতে এক বড় ভাই সাড়ে সাতশ’ ওয়ার্ডের একটা স্টাটাস দিছে, সবাই সাথে সাথে লাইক দিয়া দিলো!  বিশ মাইল স্পিডেও যদি পুরোটা পড়ি, তাইলেও তো ৭ মিনিটের বেশি লাগার কথা! কিন্তু এক মিনিটেই ৫০টা লাইক। আসলে ভাই পড়তে হয় না, বুঝতে হয় না। নাম দেইখাই লাইক।

    আমি বললাম, এটা কোন যুক্তি হইল!

    সে কয়, কেন হইবে না। এই যে দ্যাখেন, প্রথম আইলো-‘নৌকার উপর ভরসা রাখুন’। কেউ কিছু বুঝছে? খপাখপ সবাই প্রোফাইলে লাগায়া দিলো। কয়দিন পরে আবার আইলো, ‘আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন’। ওই একই লোকেরা নিজেদের প্রোফাইল পাল্টাইয়া দিলো। মোবাইল বাইর কইরা সে আবার প্রমাণও দেখাইল। কইল, বুঝছেন ভাই। উত্তর দেয়ার অপেক্ষা না কইরাই কইলো, একটা লোক সবার উপর ভরসা রাখে কেমনে?

    এবার বললাম, আসলে আমাদের নিজেদের উপরই ভরসা নাই। অন্যের উপর ভরসা কইরাই তো আমাগো এই দশা! নিজের উপর ভরসা থাকলে কী তুমি আমারে ফেইসবুকে স্টাটাস দিতে কইতা? তুমি নিজেই তো ভাল একটা স্টাটাস দিতে পারো। ইস্যুতে ইস্যুতে স্টাটাস দিবা, আবার স্টাটাস দিয়াও ইস্যু বানাইয়া ফালাইবা।

    এবার বেশ চিন্তায় পড়ে গেল সে। কিছুক্ষণ চিন্তা কইরা কয়, থাক ভাই বাদ দেন। ইস্যু আর স্টাটাস নিয়া একটা ছড়া শোনান।

    কী আর করা-‘একটার পর একটা চাপা পড়ে ইস্যু/ আবালের মুখে কইরা দিমু হিসু!’

    04--2 . লেখক: সংবাদকর্মী ও ছড়াকার।