সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭ ,৯ আশ্বিন ১৪২৪
৩০ জুন ২০১৭ শুক্রবার , ৪ : ২৪ অপরাহ্ন

  • আদমজী জুট মিল বন্ধের ১৫ বছর আজ

    x

    Decrease font Enlarge font

    01রুদ্র প্রকাশ, টাইমস নারায়ণগঞ্জ: আজ ৩০ জুন এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিল বন্ধের ১৫ বছর। ২০০২ সালের এই দিনে মিলটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এখন ওই স্থানে গড়ে উঠেছে আদমজী ইপিজেড। বর্তমানে এই ইপিজেডে চাকরি করছে ৪৮ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা।

    পাকিস্তানের অন্যতম ধণাঢ্য আদমজী পরিবারের তিন ভাই এ. ওয়াহেদ আদমজী, জাকারিয়া আদমজী ও গুল মোহাম্মদ আদমজী যৌথভাবে আদমজী জুটমিল প্রতিষ্ঠা করেন। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যার তীরে সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়ায় আদমজী জুটমিল গড়ে ওঠে ২৯৭ একর জমির ওপর। ১৭০০ হেসিয়ান ও ১০০০ সেকিং লুম দিয়ে এই মিলের উৎপাদন শুরু হয় ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর।

    01--1ওই সময় এই মিলের উৎপাদন থেকে প্রতি বছর প্রায় ৬০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর যাত্রা শুরুর পর পরই আদমজী জুটমিলস লিমিটেড শেয়ার ছেড়ে বিনিয়োগ উন্নীত করা হয় ৭ কোটি টাকায়। তখন মিলে তাঁতকল বসানো হয় ৩ হাজার ৩০০টি।

    আদমজী জুট মিলে উৎপাদিত চট, কার্পেটসহ বিভিন্ন প্রকার পাটজাত দ্রব্য দেশের চাহিদা পূরণ করে চীন, ভারত, কানাডা, আমেরিকা, থাইল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হতো। এ সময় আদমজী জুট মিল হয় পৃথিবীর অন্যতম জুট মিল এবং এশিয়া মহাদেশের সর্বৃবৃহৎ কারখানা।

    আদমজীকে ঘিরে শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ে সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাঁয়ে গড়ে ওঠে বিশাল জনগোষ্ঠীর আবাস। মিল ছাড়াও এসব এলাকায় কয়েক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়। স্বাধীনতার আগে ১৯৭০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মিলটি ১৯ বছরে লোকসান দেয় মাত্র ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

    ১৯৭৪ সালের ২৬ মার্চ রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে আদমজী জুটমিল জাতীয়করণ করে জুটমিল কর্পোরেশনের হাতে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত আদমজীর বার্ষিক উৎপাদন ছিল ৭০ হাজার মেট্রিক টন। যার বিক্রয় মূল্য ছিল আনুমানিক ২১০ কোটি টাকা।

    01--2মিলটিতে ২৪ হাজার ৯১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক চাকরি করতেন। মিলটি বন্ধ করার সময় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের ৩৫ কোটি ৭৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।

    ২০০২ সালের ৩০ জুন চিরতরে আদমজী জুট মিল বন্ধ করে দেয় বিএনপি সরকার। বন্ধের দিন কান্নার রোল পড়ে গোটা আদমজীতে। কিন্তু মিল বন্ধের দীর্ঘ এ সময়েও সাধারণ অসহায় শ্রমিকদের কান্না থামেনি। প্রতি বছরের ৩০ জুন এলেই নিজের ভাগ্য নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তারা। এক সময় যাদের চোখে মুখে ছিল নানা স্বপ্ন এখন তাদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ। ঐতিহ্যবাহী এই শ্রম জনপদ ইপিজেডে পরিণত হয়ে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পেলেও ঠাঁই হয়নি চাকরি হারানো শ্রমিকদের। এমনকি আদমজী জুট মিলের শ্রমিকদের সন্তানদেরও চাকরি মেলে না ইপিজেডে।

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে আদমজী জুট মিল পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়ে আসলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। অধিকাংশ শ্রমিকই বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য সমৃদ্ধ এক মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এশিয়ার বৃহত্তম সেই আদমজী জুট মিল এখন শুধুই স্মৃতি।