সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭ ,৯ আশ্বিন ১৪২৪
১৮ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার , ৮ : ২১ অপরাহ্ন

  • মধ্যাঞ্চলে ধেয়ে আসছে পানি

    x

    Decrease font Enlarge font

    04টাইমস নারায়ণগঞ্জ: দেশের উত্তরাঞ্চলে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার প্রবল বন্যা এখন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে দেশের মধ্যাঞ্চলে। এরই মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল ও ফরিদপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বন্যায়। এসব জেলার কয়েক লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি। এছাড়া, মুন্সীগঞ্জ এখনও প্লাবিত না হলেও জেলাটিতে পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শীতলক্ষার পানিও বিপদসীমার উপরে। এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো সর্বশেষ বুলেটিনেও বলা হয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে এ পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে।

    আমাদের রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ার জেলার চার উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া বন্যার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে জেলার ৩৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯৪৪ হেক্টর ফসলি জমি। বন্যায় জেলায় সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে গোয়ালন্দ উপজেলা।

    শুক্রবার সকালের রিডিং অনুযায়ী গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ১০২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই পয়েন্টে গত ১২ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আশঙ্কা করছে, আগামী কয়েকদিন পানি আরও বাড়তে পারে।

    নদী তীরবর্তী ফরিদপুর জেলাতেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটছে। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। শুক্রবার সকাল ৯টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

    আমাদের ফরিদপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শহর রক্ষা বাঁধের কারণে ফরিদপুর শহরে বন্যার পানি ঢুকতে পারেনি। তবে সদর উপজেলার উত্তর দিকে পদ্মার তীরবর্তী চারটি ইউনিয়ন এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া চরভদ্রাসন উপজেলার সবগুলো ইউনিয়নই এখন বন্যাকবলিত। এদিকে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে গাজিরটেক ইউনিয়নের হাজিগঞ্জ বাজার।

    মানিকগঞ্জ থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, স্থানীয় পাউবোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বাড়েনি। তবে এখনও ওই পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে জেলার অভ্যন্তরীণ নদী ধলেশ্বরী, ইছামতি, কালিগঙ্গাতেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে করে জেলার শিবালয়, দৌলতপুর, হরিরামপুর ও ঘিওর উপজেলার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। তাতে করে কয়েকলাখ মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ৩১১ নম্বর রুমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রও খোলা হয়েছে।

    মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে প্লাবিত হতে শুরু করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলাও। গত কয়েকদিনে জেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। আমাদের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকূল পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুয়েকদিন পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় পাউবো।

    এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের শুক্রবারের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার অববাহিকার মধ্যে গঙ্গায় পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। এছাড়া, ব্রহ্মপুত্রের উজানের ভারতীয় অংশে এবং মেঘনা অববাহিকায় ভারতীয় ও বাংলাদেশ অংশে পানি কমছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর ভারতীয় অংশের গোহাটিতে (বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১৮০ কি.মি. উজানে) ৩৩ সেন্টিমিটার; পান্ডুতে (বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১৬০ কি.মি. উজানে) ২২ সেন্টিমিটার; গোয়ালপাড়া (বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ৯০ কি.মি. উজানে) ২৭ সেন্টিমিটার এবং ধুবরী (বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ২৫ কি.মি. উজানে) ১৮ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। বুলেটিনে আরও বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার অববাহিকায় পানি কমতে পারে। তবে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এসময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের, বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অবনতিশীল থাকবে।