সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭ ,৯ আশ্বিন ১৪২৪
১৮ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার , ৮ : ২৫ অপরাহ্ন

  • ডিএনডি: অপেক্ষা আরও ৪ বছর!

    x

    Decrease font Enlarge font

    03টাইমস নারায়ণগঞ্জ: সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি যদি ঠিক সময়মতো বাস্তবায়ন হয়, তবুও আগামী তিন বছরেও দূর্ভোগ পিছু ছাড়বে না ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধের মধ্যে বসবাসরতদের। স্থায়ীভাবে এ বাঁধের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেয়া হলেও এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি সরকার। বলা হচ্ছে, প্রকল্পে আরও কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

    বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার মুখ খুলেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো: রাব্বী মিয়া। তিনি একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে একনেকে পাশ হওয়া ডিএনডি প্রকল্পটি আগামী অক্টোবরে কাজ শুরু করতে পারে সেনাবাহিনী। এখানে অনেকগুলো উন্নয়নমুলক কাজ সংশোধন করা হচ্ছে। কাজ শুরু হলে ডিএনডি প্রকল্প শেষ করতে তিন বছর সময় লাগবে। সবমিলিয়ে দূর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে ডিএনডিবাসীকে কমপক্ষে আরও ৪ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

    ২০১৬ সালের ৯ আগষ্ট একনেকের সভায় ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) সেচ প্রকল্প এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিএনডি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (ফ্রেজ-২); শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদিত হয়।

    এ বিষয়ে ডিএনডির প্রকল্প পরিচালক আব্দুল আউয়াল জানান, ডিএনডি বাঁধের অভ্যন্তরে জলাবদ্ধতা নিরসনে নেয়া প্রকল্পটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ বছর শেষ নাগাদ কাজ শুরু হবে বলে আশা করা যায়। আর সেটা ২০২০ সালের জুন নাগাদ শেষ হওয়ার কথা। এই প্রকল্পে ছোট-বড় মিলিয়ে ৯৩ কিলোমিটার খাল দুখলমুক্ত ও পুনর্খন করার পাশাপাশি কালভার্ট, কজওয়ে, সেতু, ড্রেন, ওয়াটারওয়ে নির্মাণ ও মেরামত করা হবে। ইতোমধ্যেই প্রকল্পের সার্ভে, নকশা ও প্রাক্কলনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবিনেটে অনুমোদন হলে আগামী নভেম্বরে সেনাবাহিনী প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠে নামবে। প্রসঙ্গত ইরি ধান চাষাবাদের জন্য ১৯৬৫ সালে ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে তৈরি করা হয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ। ৩২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ডিএনডি বাধের ভেতর ৫৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ২০ লাখ লোকের বসবাস। তখন ডিএনডির ভেতর সেচ প্রকল্প ছিল পাঁচ হাজার ৬৪ হেক্টর।

    সূত্র জানায়, ডিএনডি বাঁধের ভেতর কংস নদ এবং নলখালী খালের মতো ৯টি খাল ছিল। যা ডিএনডির ইরিগেশন প্রজেক্টে সেচখাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এসব খালের ছিল আরও ৯টি শাখা খাল। এছাড়াও ছিল ২১০টি আউটলেট, ১০টি নিষ্কাশন খাল। এসব খালের সর্বমোট দৈর্ঘ্য ১৮৬ কিলোমিটার। এ মধ্যে এক কিলোমিটার দীর্ঘ ইনটেক খাল, ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মেইন ক্যানেল টার্ন আউট খাল রয়েছে। এর মধ্যে চ্যানেল-১ খালের র্দৈঘ্য ৭ দশমিক ৯০ কিলোমিটার, চ্যানেল-২ এর দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার, পাগলা খাল ৩ কিলোমিটার, জালকুড়ি খাল ২ দশমিক ১০ কিলোমিটার, শ্যামপুর খাল ২ দশমিক ৭০ কিলোমিটার, ফতুল্লা খাল ১ দশমিক ৮০ কিলোমিটার ও সেকেন্ডারী চ্যানেলের দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার। কংস নদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই। আশির দশকের পর থেকে লোকজন ডিএনডি বাঁধের ভেতর জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, ইটের ভাটা, ছোট-বড় শিল্প-কারখানা নির্মাণ করে। কিন্তু জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের রক্ষনাবেক্ষন না থাকায় খাল দখল ও ভরাট করে দোকানপাট, ঘরবাড়ি, কলকারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান করায় নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থাপনা অল্প বৃষ্টিতেই হাটু পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।