রবিবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৭ ,৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
২১ আগস্ট ২০১৭ সোমবার , ৫ : ১৪ অপরাহ্ন

  • ৩ কারণে জেলা প্রশাসনকে নাগরিক সমাজের আল্টিমেটাম

    x

    Decrease font Enlarge font

    01টাইমস নারায়ণগঞ্জ: বিশেষ তিনটি কারণে জেলা প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা বাঁধের জলাবদ্ধতা নিরসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মেয়র অথবা জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে জেলা প্রশাসনকে কেন আল্টিমেটাম দেয়া হলো সমালোচকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওই তিনটি কারণের কথা জানায় কমিটি।

    সচেতন নাগরিক সমাজের আহবায়ক কলামিস্ট এম এ মাসউদ বাদল সমালোচকদের প্রশ্নের উত্তর হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি স্টাটাস দিয়েছেন। স্টাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘ডিএনডিবাসীর দূর্ভোগ কমাতে জেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি! অনেকের মধ্যে প্রশ্ন জাগতে পারে সবাইকে বাদ দিয়ে জেলা প্রশাসনকে নিয়ে টানা হেঁচড়া করা হচ্ছে কেন? তিনটি কারণে জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে।

    এক. গোটাদেশেই প্রাকৃতিক বন্যার করাল গ্রাসে আক্রান্ত অনেক রাস্তা কালর্ভাট বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে গিয়েছে অনক মানুষ ক্ষতি গ্রস্থ হেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তাব্যক্তিগণ সে সকল কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। অপর দিকে শিমরাইল পাম্প হাউজে প্রতিদিন ৩০০ কিউসেকের অধিক পানি নিষ্কাশন করতে পারে না। প্রতিদিন ৩০০ কিউসেক করে ডিএনডির পানি নিষ্কাশন করা হলেও আগমী তিন মাসেও সমস্ত পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব নয়।

    দুই. আমাদের মাননীয় মেয়র ও এমপি মহদোয় রাজনীতি নিয়ে ব্যতি ব্যস্ত রয়েছেন!  কে নমিনেশন পাবে কে পাবে না প্রধানমন্ত্রীকে কিভাবে বায়েস্ট করা যায় তা নিয়েই তারা মহাটেনসনে আছেন! ডিএনডিবাসীর দূর্ভোগ দেখার সময় তাদের  নেই!

    তিন. আমাদের মাননীয় জেলা প্রশাসক এসব কোন ঝামেলার মধ্যেই নেই, তাছাড়া দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য প্রতি জেলা প্রশাসকদের একটি ফান্ড থাকে, যা নারায়নগঞ্জেও আছে। আমাদের জেলা প্রশাসক অত্যন্ত ভদ্রলোক, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি অনেক মানবিক কথাবার্তা বলে থাকেন।  তাই প্রথমে তাকে খোলাচিঠি দিয়ে ডিএনডিবাসীর দুঃখ কস্ট জানিয়ে কিছু অস্থায়ী পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের অনুরোধ করেছিলাম। আমার জানামতে ওই চিঠিটি তার নজরে পড়েছে। দুঃখজনক বিষয় তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। অত:পর ১৯/৮/১৭ইং এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যে মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করেছি। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন কোন প্রকার ব্যবস্থা নিয়েছে বলে আমাদের জানা নাই।

    পবিত্র ঈদুল আজহার মাত্র দশ দিন বাকি এখনো যদি জেলা প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করেন তাহলে ৯২% মুসলমানের দেশের একটি অংশ ডিএনডি অধিবাসী কোরবানীর পরিবর্তে মলমূত্রযুক্ত পানিতে হাবুডুবু খেয়ে নিজেরাই কোরবানী হবেন।

    মাননীয় জেলা প্রশাসক সাহেব হয়তো ভুলে গেছেন, তিনি যে বিলাস বহুল ভবনে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন ওই অট্টালিকাটি খেটে খাওয়া মানুষের ঘামঝড়া অর্থে তৈরী হয়েছ। ওই ভুখানাঙ্গা মানুষগুলোর কথা স্মরণ করে কিছু কাজ করেন তা হলেই আপনি প্রকৃত মানুষ হবেন।’

    অপরদিকে এম এ মাসউদ বাদল বলেন, ডিএনডিবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে আমরা নাগরিক সমাজ যেখানে দিনরাত এক করছি, সেখানে একটি চক্রের এ সমালোচনা বেশ দু:খজনক। আমরা আশা করবো তারা এ ধরণের সমালোচনা না করে আমাদের আন্দোলনে যুক্ত হয়ে এ দাবিকে আরো জোরালো করবেন।