রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৯ ,৫ ফাল্গুন ১৪২৫
০৪ এপ্রিল ২০১৮ বুধবার , ৬ : ০৫ অপরাহ্ন

  • বক্তাবলীতে চিকিৎসাসেবার নামে চলছে প্রতারণা

    x

    Decrease font Enlarge font

    08টাইমস নারায়ণগঞ্জ: সদর উপজেলার দূর্গম চরাঞ্চল বক্তাবলীতে ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের নামে সাধারণ মানুষের সাথে চলছে প্রতারণা। গড়ে উঠা এসব মানহীন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে গ্রামের সহজ-সরল মানুষ। চিকিৎসার নামে এসব প্রতিষ্ঠান হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, বক্তাবলীর হাজী চান প্লাজায় গড়ে উঠা রাজিয়া নার্সিং হোম নামের এমন একটি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে রয়েছে রোগীর প্রাণহানি, এমআর ডিএনসি সহ নানা অনৈতিক কর্মকা-ের অভিযোগ। আয়া বুয়া দিয়ে পরিচালিত এই নার্সিং হোমটি একাধিকবার উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস, সিভিল সার্জন অফিস, ভ্রাম্যমান আদালত একাধিক প্রসুতি ও গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুর অভিযোগে বন্ধ করে দেয়। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চালু করা হয় মানুষ হত্যার এ কারখানাটি। যা এখনও দিব্যি চলছে।

    অন্যদিকে বক্তাবলীতে রোগ নির্নয়ের জন্য গড়ে উঠা পপুলার মেডিক্যাল ও লামিয়া ডায়াগনষ্ঠিক সেন্টারের বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগের পাহাড়। এরই মধ্যে একটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের অনুমতি না থাকায় জরিমানা সহ জেলও খাটতে হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ভূল রোগ নির্ণয়ই ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টারের কাজ। এ কারণেই এ পেশায় জড়িত সংশ্লিষ্টদের দক্ষ ও অভিজ্ঞ হতে হয়। রোগীদের সেবায় হতে হয় নিবেদিত। কিন্তু বক্তাবলীতে এর চিত্র উল্টো। এখানে সেবা নয় বাণিজ্যই মূল লক্ষ্য ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা ধরণের প্রতারণার অভিযোগ।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্রাতিরিক্ত ফি, ভুল, রির্পোট, অনভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা ও রিপোর্ট লেখা, অপ্রয়োজনীয় টেষ্ট করাতে চিকিৎসকদের প্রলোভিত করা সহ এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম স্বেচ্ছাচারিতার কাছে রোগীরা অসহায় হয়ে পড়েছে।

    তাদের আরও অভিযোগ, বেশী মুনাফার আশায় নিত্য নতুন কৌশল নিচ্ছে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলো। রোগীর সংখ্যা বাড়াতে দালাল-এজেন্ট নিয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে বিভিন্ন টেষ্টের তালিকাও পাঠাচ্ছে তারা। চিকিৎসক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকার কারণে এখানে আসা গরীব রোগিদের পরীক্ষা নীরিক্ষার জন্য বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়। চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত এ অর্থ যোগান দিতে নিস্ব হচ্ছে তাদের স্বজনরা। প্রতিদিন কোন না কোনভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে গ্রামের সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত অর্থ কামাইয়ের লোভে একই পরীক্ষা একাধিকবারও করানো হচ্ছে।

    রাজিয়া বেগম জানান, কোন রোগী মারা যাওয়ার তথ্য সঠিক নয়। আমার প্রতিষ্ঠানে সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু এর আগেও দুই দুইবার এসব অভিযোগে নাসিং হোমটি সীলগালা করে দেয়া হয় বিষয়টি মনে করিয়ে দেবার পরে তিনি বলেন, তখন আমাকে ভ্রাম্যমান আদালত পায়নি বলে তালা মেরে দিয়েছিল।

    না-পাওয়ার কারণে নয়, রোগীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতার ভিত্তিতে ওই সময় সীলাগালা করা হয়-এসবের প্রমাণ প্রতিবেদকের কাছে আছে জানানোর পরে তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলেন, ভাইজান, আপনাকে আমি চিনি। আমি এসে সরাসরি আপনার সাথে কথা বলব।

    অন্যদিকে বক্তাবলী বাজারে অবস্থিত লামিয়া ডায়গনস্টিক সেন্টারের মালিক খোরশেদ আলম ফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে সময় সবাই পালিয়ে যায়, কিন্তু আমরা পালাইনি। তাই কিছুটা জরিমানা করেছে। তাছাড়া কে কী অভিযোগ করল তা যদি সামনাসামনি এসে কথা বলেন ভাল হয়। ‘আমার প্রতিষ্ঠানে আসেন’- বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।

    পপুলার মেডিক্যালে মালিক আলী আহমেদ বলেন, আমাদের বিষয়ে এসব অভিযোগ ঠিক না। কিন্তু অন্যদের বিষয়ে আমি বলতে পারি না। তবে যদি কোন রোগী অভিযোগ করে তাকে নিয়ে আসেন, আমি দেখব।

    এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন এহসানুল হাসান বলেন, অভিযোগ থাকলে অবশ্যই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।