বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৭ ,৪ কার্তিক ১৪২৪
৩০ নভেম্বর ২০১৫ সোমবার , ৩ : ৩০ অপরাহ্ন

  • মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের ঋণ জাতি কোনদিন শোধ করতে পারবো না -সামিউল্লাহ্ মিলন

    x

    Decrease font Enlarge font

    বীর সৈনিকদের স্মৃতিচারণে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ

    Milon টাইমস্ নারায়নগঞ্জ: ৭১’র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবিস্মরনীয় অবদানকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে “টাইমস নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডট কম” এর পক্ষ থেকে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে মাসব্যাপী নারায়ণগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের প্রথম প্রয়াস হিসেবে বিজয়ের প্রথম দিনে প্রকাশিত হচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলনের যুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ। আমি ১৭ বৎসরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। তখন আমি কলেজে পড়ি। আমি ঐ সময় নারায়ণগঞ্জ শহর ছাত্রলীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই স্বাধীনতার জন্য কঠিন সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ি এবং ২৬ শে মার্চ নারায়ণগঞ্জের  জামতলায় স্বেরাচারী পাক হানাদারদের সাথে কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ভাইয়ের নেতৃত্বে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। আমি একজন ভারতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। আমার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার পালাটানা গ্রাম। আমি পালাটানা ক্যাম্পে ক্যাপ্টেন সুজেদ আলীর অধীনে সামরিক প্রশিক্ষণ ও অতির্কত হামলা প্রশিক্ষণসহ ত্রিপুরা রাজ্যে অজঁ পাড়াগায়ে পাহাড়ের উপর ঝির ঝির বৃষ্টির মধ্যে মোট ৪১ দিন প্রশিক্ষণ গ্রহন করি। ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে মাতৃভূমিকে স্বৈরাচারী পাক হানাদারদের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং নিজের মাতৃভুমিকে স্বাধীন করতে ঝাঁপিয়ে পড়ি সম্মুখ যুদ্ধে। দিঘীবাড়ি বাজার, পান্তি বাজার কুমিল্লা বর্ডার এলাকায় শুরু হয় স্বৈরাচারী পাক হানাদারদের সাথে আমাদের সম্মুখ যুদ্ধ। একদিন আমরা স্বৈরাচারী পাক হানাদারদের গানবোর্ড উড়িয়ে দিতে সক্ষম হই। এর মধ্যে আমার সক্রিয় ও অগ্রনী ভূমিকা ছিল। আমরা মদনপুর রেল লাইনে সম্মুখ যুদ্ধে বেশ কয়েকজন পাক হানাদারদেরকে হত্যা করতে সক্ষম হই এবং স্বৈরাচারীদের কাছ  থেকে কাঁচপুর, মদনপুর, কুড়িপাড়া এলাকা মুক্ত করি। এরহুম এ,টি,এম, মেজর হায়দার আমাদের গ্রুপকে গিয়াস উদ্দিন বীর প্রতীকের সাথে সাক্ষাৎ এবং তাঁর গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পাক হানাদারদের সাথে যুদ্ধ করতে বলে দিয়েছিলেন। চিরকুটের মাধ্যমে গিয়াস ভাইকেও অবগত করা হয়েছিল। আমি আমাদের গ্রুপকে নিয়ে গিয়াস উদ্দিন বীর প্রতীকের নেতৃত্বে বন্দর থানা  কল্যান্দি গ্রামে সৈ¦রাচারী পাক হানাদারদের সাথেও যুদ্ধ করি। বন্দর থানার নবীগঞ্জে পাকবে অফিস সংলগ্ন এলাকায় সৈ¦রাচারী পাক হানাদারদের সাথে আমাদের গ্রুপ ও আরো অন্যান্য গ্রুপের সাথে হানাদারদের যুদ্ধ হয়। নবীগঞ্জ রেল লাইন টি হোসেন বাড়ীর সংলগ্ন স্থানে তুমুল যুদ্ধ হয়। এক পর্যায়ে বাংকার থেকে ব্রাশ ফায়ারে আমাদের ৮জন সৈনিক নিহত হন। জাতি মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের ঋণ, রক্তের দায় কোনদিন শোধ করতে পারবো না। মহান বিজয়ের মাসে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ‘টাইমস নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডট কম’কে ধন্যবাদ জানাই।