রবিবার, জুন ১৬, ২০১৯ ,২ আষাঢ় ১৪২৬
০৫ জুন ২০১৮ মঙ্গলবার , ১ : ৫২ অপরাহ্ন

  • একজন কবি-রাজ কথা

    x

    Decrease font Enlarge font

    03আহমেদ রউফ, টাইমস নারায়ণগঞ্জ: দীর্ঘদিন ধরে দেখছি লোকটি শরবত বিক্রি করে সাথে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা ও করে। তার ছেলে মেয়ে তিনজন তার মধ্যে এক ছেলে দুই মেয়ে। ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন বড়মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়েটার বিয়ে এখনও দেয়া যাচ্ছে না! তার কারণ মা থাকে একদিকে, বাবা থাকে একদিকে আর ভাই থাকে আরেক দিকে, এই কারণেই তার পাত্রস্থ হচ্ছে না। তবুও আমি চেষ্টা করছি। যদিও মেয়ে তার বড় বোনের সাথে আছে। এখন সবাই সবার মত সুখেই দিন কাটাচ্ছে। দুঃখের বিষয় হলো যে বাবা এত কষ্ট করে নিজে না খেয়ে না পড়ে ছেলে-মেয়েদের খাইয়ে পড়িয়ে বড় করেছে আজ সেই ছেলে মেয়ে বাবাকে দেখে না। এমনি ভাবে কথগুলো বলছিল কবিরাজ মো. ছিদ্দিকুর রহমান চিস্তিয়া। আর দুচোখে জল টলমল করছিল। কথা গুলো বলে কিছুক্ষন ছুপ করে রইলেন ছিদ্দিকুর কাকা। আমি কাকা বলে ডাকতেই কেমন যেন থমকে উঠলেন। আর বললেন, এখন আর ভালো লাগে না রাস্তায় বসে শরবত বিক্রি করতে। শরির আর পারে না অনেক রোগে আক্রান্ত আমি।

    যেমন-ডায়ব্যাটিস, উচ্চ রক্তচাপ, আবার নতুন করে হার্ট এর ব্যথা এই সকল ভারি রোগের ব্যায়ভার আর বহন করা যাচ্ছে না। কারণ এই সকল রোগে চিকিৎসা করাতে হলে অনেক টাকার দরকার। শরবতের দোকান করে আমার পক্ষে চিকিৎসা করা ও সম্ভব হচ্ছে। মানুষের কাছে হাত পাতার ও অভ্যাস নেই ছোটবেলা থেকেই। ছেলে-মেয়েদের কথা বলবেন জানি, কিন্তু আমার ছেলে মেয়ে থেকে ও নেই এই কথা আমি আগে ও বলেছি। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি, নায়-নাতকুর নিয়ে তারা ভালোই আছে! এইটাই আমার শান্তি, মেয়ে সুখে থাকলে যে বাবা মা'র কতটা ভালো লাগে তা শুধু বাবা মা-ই বুঝবে। ছেলেটা ও বিয়ে করেছে। কিন্তু তার আর বাবার প্রয়োজন নেই। বলতে পারেন, আপনার স্ত্রী! স্ত্রী থেকে ও নেই। এই ৪৩ বছর সংসার জীবনে এক সাথে ছিলাম একেই বিছানায় সুখে দুখে কিন্তু আজ আমার কঠিন রোগে ছেলে মেয়েদের মত সে ও চলে গেল ভাই ভাতিজাদের কাছে। বলতে পারেন এই কঠিন যজ্ঞে আমি একাই যুদ্ধ করে যাচ্ছি। কষ্ট হয়, যখন মনে হয় সব কিছু থেকে ও আমার কেউ নেই...

    কথা গুলো বলছে আর দু'চোখ ভেয়ে পানি পরছে। কষ্টটা আর ধরে রাখতে পারছে, হাউমাউ করে কেঁদে উঠছে ছোট মানুষের মত। আমি বললাম, কাকা আর কাঁদবেন না। এই পৃথিবীতে এখনও অনেকের অনেক কিছু থেকেও পথের মধ্যে জীবন পার করছে। আল্লাহ সহায় তাই এখনও আপনি একটা কিছু করে খেতে পারছেন। কারো কাছে হাতও পাততে হচ্ছে না। রাতে একটা মাতা রাখার ঠাইও আছে। দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে।

    লেখক: সম্পাদক, রৌদ্রছায়া।