রবিবার, জুন ১৬, ২০১৯ ,২ আষাঢ় ১৪২৬
০৯ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার , ৬ : ২৭ অপরাহ্ন

  • আন্দোলনে বদলে যাাচ্ছে কানাইনগর ছোবহানীয়া স্কুল!

    x

    Decrease font Enlarge font

    33টাইমস নারায়ণগঞ্জ (ফতুল্লা প্রতিনিধি): আন্দোলনের ঢেউ লেগেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলীর অন্যতম বিদ্যাপীঠ কানাইনগর ছোবহানীয়া উচ্চ বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষকের দূর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের কারণে স্কুলে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা গেছে।

    আন্দোলনের ফলে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনও হয়েছে বলে স্থানীয়দের মত। তারা জানান, পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন অংশে ক্লাশ করানো হচ্ছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় দুই শিফট চালু করা হয়েছে। বক্তাবলীতে কর্মীসভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান নতুন একটি ভবন করার ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষকদেরও ক্লাশে নিয়মিত হতে দেখা যাচ্ছে।

    তারা আরও জানান, ইতোমধ্যে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার স্কুল পরিদর্শন করে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। এমনকি দুইজন করণিককে রাতদিন খাটিয়ে হিসাব হালনাগাদ করানো হচ্ছে।

    প্রসঙ্গত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেনের মেয়াদকালের ৯ বছরে সীমাহীন দূর্নীতির বিরুদ্ধে স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, দূর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক সহ বিভিন্ন দপ্তরে তার দূর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরমধ্যে ৪ জুলাই রেজাউল বারী নিজেই সরেজমিন স্কুলটি পরিদর্শনে যান। তাঁর আসার খবরে প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন নিজ কক্ষে তালা মেরে পালিয়ে যান। বিষয়টি তখন জেলাজুড়ে আলোচনার ঝড় তোলে।

      আমজাদ মাস্টারের দুর্নীতির খতিয়ান::

    কানাইনগর ছোবহানীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন ৯ বছরের মেয়াদকালে তাঁর দুর্নীতির খতিয়ান রূপকথার গল্পকেও হার মানিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি তাঁর মেয়দকালে ২ কোটি ৩৪ লক্ষ ৬০ হাজার ১শত ৬৭ টাকা দূর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।

    এ কারণে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেনের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্নখাতে তাঁর দুর্নীতির খতিয়ান জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন-বিদ্যালয়ের ১৯৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এ দাবিতে এলাকায় বেশ কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ’৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

    আন্দোলনকারীদের দেয়া তথ্যমতে, আমজাদ হোসেন স্কুলের পূন:ভর্তি বাবদ ৩২ লক্ষ ৭৬ হাজার, বিলম্ব অনুপস্থিত বাবদ ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, খেলাধুুলা খাতে ৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, নির্মাণ খাতে ৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, গ্রায়াচুটি বাবদ ১২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৮ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা, মিলাদ বাবদ ৮ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা, দূস্থ: তহবিলের ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, পাঠাগারের ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, গবেষণার ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, সাংস্কৃতিক খাতে ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, স্কাউটের ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, উন্নয়নের ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, কম্পিউটারের ৬ লক্ষ ৩০ হাজার, মসজিদ ফান্ডের ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, অগ্রগতি পত্র বাবদ ৫লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা, মনোগ্রাম বাবদ ৫ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা, এসএসসি পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরন বাবাদ অতিরিক্ত ২৮ লক্ষ ৩ হাজার ১ শত ৬৭ টাকা, কৃষি ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা বাবদ ৮ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা, উপবৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীদের সরকারি অনুদানের ৫ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ করেন। এর প্রমাণ হিসেবে স্কুলের রশিদ ও ব্যাংক এ্যাকাউন্ট সহ নানা তথ্য-উপাত্ত্ব তুলে ধরা হয়।