রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৯ ,২৮ আশ্বিন ১৪২৬
১৪ আগস্ট ২০১৮ মঙ্গলবার , ৫ : ৪৪ অপরাহ্ন

  • শোকাবহ ১৫ আগস্ট কাল

    x

    Decrease font Enlarge font

    02টাইমস নারায়ণগঞ্জ: শোকাবহ ১৫ আগস্ট কাল। বাঙালি ও বাংলাদেশের জন্য আজ শুধুই অশ্রু ঝরার দিন; প্রিয়জন হারানোর ব্যথা বুকে বাজার দিন। কাল জাতীয় শোকদিবস। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাতবার্ষিকী। এই দিনে বাংলাদেশ হারিয়েছে তার স্থপতিকে, বাংলাদেশিরা হারিয়েছেন তাদের জাতির পিতাকে, বাঙালি হারিয়েছে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বাঙালি রাজনীতিবিদকে। এ দুঃখ সইবার নয়, এ দুঃখ ভোলার নয়।

    ১৯৭৫ সালের এই কালো দিনটিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিবার-পরিজনসহ নৃশংসভাবে শহীদ হন ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর সড়কের নিজ বাসভবনে। কিছু বিশ্বাসঘাতক রাজনীতিকের চক্রান্ত এবং সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী সদস্যের নির্মম বুলেটের আঘাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেদিন প্রাণ হারান তার প্রিয় সহধর্মিণী বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, সেনা কর্মকর্তা শেখ জামাল ও ১০ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল এবং নবপরিণীতা দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। তবে প্রবাসে থাকায় সেদিন প্রাণে রক্ষা পান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

    মধ্য আগস্টের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডে আরও প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, শিশুপৌত্র সুকান্ত বাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, নিকটাত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত, আবদুল নঈম খান রিন্টু এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

    জাতীয়ভাবে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পুরো জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বাঙালির গর্ব, আবহমান বাংলা ও বাঙালির আরাধ্য পুরুষ শেখ মুজিবুর রহমানকে। একই সঙ্গে স্মরণ করছে ভয়াল সেই দিনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আরও যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদেরও। দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে আওয়ামী লীগের শাখাও একইভাবে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছে বাংলাদেশের জাতির পিতাকে।

    শোকাবহ এ দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারে সদস্যদের নিষ্ঠুর-বর্বরোচিত হত্যাকা-ের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ১২ খুনিকে মৃত্যুদ- দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এরই মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকরও করা হয়েছে। অন্যদের মধ্যে এক আসামি বিদেশে মারা গেছেন। বাকিরা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন। তাদেরও দ্রুত দেশে এনে রায় কার্যকর করা হবে। এ জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

    কর্মসূচি::  

    প্রতিবারের মতো এবারও আওয়ামী লীগ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে আগস্ট মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জাতীয় শোক দিবসের আজকের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সময় বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ আওয়ামী লীগের সবস্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন। এর পর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করবেন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির উদ্দেশে।

     

    দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সরকারি-বেসরকারি রেডিও ও টিভি চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সরাসরি সম্প্রচারসহ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করছে সংবাদপত্রগুলো। এ ছাড়া পোস্টার, সচিত্র বাংলাদেশের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজ নিজ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতেও আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। আয়োজন করা হয়েছে আলোচনাসভাসহ নানা কর্মসূচির।