বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৭ ,৯ ফাল্গুন ১৪২৩
০৩ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার , ১২ : ০৬ অপরাহ্ন

  • দেশ স্বাধীন না হলে মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসি হতো- মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ভূইয়া

    x

    Decrease font Enlarge font

    06টাইমস নারায়ণগঞ্জ: ১৯৭১ সালের মার্চ মাস। তখন দশম শ্রেণীতে পড়ি। রাজাকারদের সহায়তায় পাক হানাদাররা বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল। তখন আমরা মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করি। জীবন বাজি রেখে ৯টি মাস যুদ্ধ করে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বিজয় ছিনিয়ে আনি।

    মহান বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের টাইমস নারায়ণগঞ্জ’র এ প্রতিবেদকের কাছে স্মৃতিচারন করতে গিয়ে একথা গুলো বলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মো: শহাজাহান ভূইয়া জুলহাস। তিনি বলেন, আমরা জানতে পারি সিদ্ধিরগঞ্জস্থ গোদনাইল ২নং ঢাকেশ্বরী মিলসে একটি ধোপার দোকানে বসে প্রতিদিন সন্ধ্যায় আড্ডা দিত উক্ত এলাকার জনৈক রাজাকার। তারপর আমাদের ২নং সেক্টরের কমান্ডার সিরাজুল ইসলামের নির্দেশে ঐ রাজাকারকে অনুসরন করে তার উপর এ্যটাক করি। তখন আমার স্ট্যান গানের ছোড়া গুলিতে নিহত হয় সেই রাজাকার। তখন আমার সাথে থাকা আরেক মুক্তিযোদ্ধা (বর্তমানে প্রয়াত) তোতা মিয়া রাজাকারের মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য আমার বন্দুক ধরে টান দেয়। তখন অসাবধনাব:শত বন্দুকের একটি গুলি বের হয়ে তোতার পায়ে বিদ্ধ হয়।

    রাতে তোতা কে কোথাও নিয়ে যাওয়ার উপায় না পেয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পরিত্যক্ত কক্ষে থাকি। একদিকে ক্ষুধার্থ আরেকদিকে পাক হানাদারদের আক্রমনে মৃত্যু ভয়ে সেখানে রাত্রি পার করি। মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আরো বলেন, আজ দেশ যদি স্বাধীন না হতো তাহলে রাষ্ট্রদোহ মামলায় মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসি হতো। আর বর্তমানে আমাদের ভাতা পেত রাজাকাররা। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী দিনের মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস তুলে ধরে শাহজাহান বলেন, স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ইং সালের ১৫ আগষ্ট হত্যার পর এদেশের মুক্তিযোদ্ধারা আতংক হতাশায় নিমজ্জিত হয় কিছু পাওয়া দুরের কথা নিজেদের জানমাল ইজ্জত বঁাঁচানো দায় হয়ে যায়। যে মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের মায়া তুচ্ছ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করে দেশটা স্বাধীন করেছিল, তখন সেই মুক্তিযোদ্ধাদের নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতেও লজ্জাবোধ করত।

    এমনি ভাবে চলার পর এরশাদ সরকারের আমলে কিছু না পালিয়েও এরশাদ মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বকালের শেষ্ঠ সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ঘোষনা দেওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা আস্তে আস্তে নিজেদের পরিচয় দিতে থাকেন। অনেক চড়াই উত্তরাই পেরিয়ে ১৯৯৬ইং সালে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামীগ সরকার ক্ষমতায় আসায় তৎসময়ের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার অবদানে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাগ্য সুপ্রসন্য হতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সামাজিক মূল্যায়নের প্রচলন করে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা কার্যক্রম চালু করেন।

    তিনি বলেন, যদিও ২০০১ইং হইতে ২০০৬ইং পর্যন্ত মাঝখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ/সুবিধা রহিত করা হয় । কিন্তু  ২০০৮ইং পূনরায় স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাগ্য বদলাতে থাকে। বর্তমান সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যদায় দাফন এবং অস্বছল ও বাস্তভিটাহীন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন প্রকল্পের ব্যবস্থা নিয়েছেন।