রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৯ ,২৮ আশ্বিন ১৪২৬
০৮ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার , ৪ : ২৫ অপরাহ্ন

  • কাশিপুর ইয়াসিন ঝুট কারখানায় সাব্বির গ্রুপের হামলা-ভাংচুর

    x

    Decrease font Enlarge font

    received_2108382872758674টাইমস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লাথানাধীন কাশিপুর এলাকার সন্ত্রাসী সাব্বির গ্রুপ ইয়াসিন ঝুট মিলে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে। সন্ত্রাসী ঐ গ্রুপের হামলায় কারখানার বেশকয়েকজন শ্রমিক আহত হয়। এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন কারখানা কতৃপক্ষ।

    অভিযোগ পত্রে মামলা বাদী মো: মাসুম উলেখ্য করেন, আমার চাচা হাজী মোঃ আব্দুল মালেক ফতুল্লা থানাধীন মধ্য নরসিংপুর এলাকাস্থ ইয়াসিন ঝুট মিল নামীয় একটি ঝুটের কারখানা স্থাপন করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। আমি সেই কারখানা দেখা-শুনা করি। গত ৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার সময় আমার চাচার বর্ণিত ঝুটের কারখানার শ্রমিক মোঃ রাজু (৪০), মোঃ জিসান (৩৩), ঝুট মিলের কাজ শেষে ছুটি হলে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে কারখানার গেইট হতে বাহির হয়ে রাস্তায় আসা মাত্রই সাব্বির গ্রুপের ১০ থেকে ১৫জন ধারালো চাকু ও অন্যান্য দেশীয় ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শ্রমিক রাজুর ব্যবহৃত ০১টি স্মার্ট ফোন, শ্রমিক জিসানের কাছ থেকে ৫শ ৩০টাকা নিয়া যায়। সেই দুজন শ্রমিক ডাক-চিৎকার করতে থাকলে সন্ত্রাসীগ্রুপ তাদের এলোপাথারী ভাবে মারধর করতে থাকে। এসময় আমাদের ঝুট কারখানার সিকিউরিটি গার্ড মোঃ আলী আহাম্মদ (২২), ঘটনাস্থলের দিকে গেলে সেই গ্রুপটি সিকিউরিটি গার্ড আলী আহাম্মদ’কেও এলোপাথারী ভাবে পিটায়। এসময় আমাদের কর্মরত উক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সিকিউরিটি গার্ড এবং কয়েকজন শ্রমিক সেখানে উপস্থিত হলে সন্ত্রাসীগ্রুপটা শ্রমিকদের আটক করে। সেই গ্রুপটি মোবাইল ও নগদ টাকা না দিয়া উল্টো কারখানা বন্ধ সহ নানা রকম হুমকি দিয়ে যায়।

    তিনি আরও উল্লেখ করনে, একই দিন আমাদের হুমকি দিয়ে এলাকাতে কারখানার নামে এই বলে অপপ্রচার চালায় যে, আমাদের কারখানার শ্রমিকরা তাদের মারপিট করেছে এমন উস্কানীমূলক কথা ছড়িয়ে অজ্ঞাতনামা আরো ৩৫/৪০ জন লোক সহ ধারালো চাপাতী, ছুরি, চাকু, লোহার রড, ও লাঠি-সোটা নিয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে সংঘবদ্ধ হয়ে পরদিন ৭ অক্টোবর মধ্যরাতে ইয়াসিন ঝুট মিলের মেইন গেইটের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। গেটের সামনে ও মিলের ভিতরের বৈদ্যুতিক লাইট, অফিস কক্ষের থাই, গ্লাস, মূল্যবান চেয়ার, টেবিল ও অন্যান্য আসবাব পত্র এবং ৫ থেকে ৬টি মেশিন ভাংচুর করে। এ সময়ে সাব্বির ও তার সহযোগী সোহান অফিসের ড্রয়ারে থাকা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীক কাজের ২লক্ষ টাকা নেন। এবং বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেন। এমনকি কারখানার মালিক আব্দুল মালেককে প্রানে মারারও হুমকি দেন। অন্যান্য শ্রমিকদের সহায়তায় আমাদের কারখানার আহত শ্রমিক রাজু, জিসান ও সিকিউরিটি গার্ড আলী আহাম্মদদের নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরীয়া) নিয়া ভর্তি করিয়া প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করানো হয়।

    এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, সাব্বির গ্রুপের প্রধান সাব্বির ঐ এলাকার শাহাবদ্দিন মিয়ার ছেলে। এ সময়ে সোহবার মিয়ার ছেলে মোঃ সোহান (২৭), মাহমুদ আলীর ছেলে আল-আমিন (২৬), আবুল’র ছেলে মোঃ ফারুক (২৭), মাহফুজুর রহমানের ছেলে মোঃ বক্কর (২৮) এই গ্রুপটি পরিচালনা করেন। এবং বিভিন্ন সময় এলাকার অপকর্মে লিপ্ত থাকেন।

    এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার সাব ইন্সেপেক্টর মামলার আয়ু আশাদুর রহমান জানান, তারা প্রাথমিক ভাবে অভিযোগ করেন। বিষয়টি আমরা তদন্ত করি। এবং তদন্ত সাপেক্ষে মামলা হয়। আব্দুল মালেক নিজে ভ্যাট টেক্স দিয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন, সন্ত্রাসী হামলা কাম্য নয়। আমরা আইনানুগভাবে ব্যবস্থাগ্রহন করছি।