রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৯ ,২৮ আশ্বিন ১৪২৬
০৫ ডিসেম্বর ২০১৮ বুধবার , ৫ : ০৯ অপরাহ্ন

  • না’গঞ্জে ৭ প্রার্থীর যতো সম্পদ

    x

    Decrease font Enlarge font

    07রুদ্র প্রকাশ, টাইমস নারায়ণগঞ্জ: হলফনামায় দেয়া সংসদ সদস্যদের সম্পদের পরিমাণ দেখে অনেকের চোখ কপালে উঠার মতো অবস্থা। যদিও সাধারণ মানুষের ধারণা হফলনামায় দেয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থীদের এসব সম্পদের বাইরেও অনেক সম্পদ রয়েছে। তবে প্রার্থীদের মধ্যে দশম জাতীয় সংসদের যারা সদস্য ছিলেন তাদের সম্পদের বিষয়েই মানুষের আগ্রহ বেশি। ক্ষমতায় থেকে গত ৫ বছরে তাদের সম্পদ কী পরিমাণ বেড়েছে তাই এখন আলোচনার বিষয়।

     

    রির্টানিং অফিসারের কাছে জমা দেয়া হলফনামায় প্রার্থীথের সম্পদে এগিয়ে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক। হাজার কোটি টাকার সম্পদের দেয়া বিররণে তিনি ব্যবসায়ীক ও সংসদ সদস্য ভাতা ছাড়া ‘অন্যান্য’ সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৬৯৬ কোটি ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৩ টাকা। নিজের নামে ৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার জমি রয়েছে। বাড়ি ও ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ৩৮ লাখ টাকা। তার কাছে নগদ টাকা আছে ৮ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার ৮৮৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৩২ কোটি ৫৫ লাখ। তবে তার নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার ঋণের পরিমাণ ৫৭৮ কোটি ৮৮ লাখ ২৬হাজার ৬৯৬ টাকা।

     

    নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে দশম সংসদের সদস্য ও এবারের আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবু ‘অন্যান্য’ খাতেই বছরে আয় করেন ৪১ লাখ টাকা। নিজে ও স্ত্রী মিলে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। ১ কোটি ৬ লাখ টাকা ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ল্যা-ক্যুজার গাড়ি, নিজের নামে অকৃষি জমির মূল্য ২ কোটি ৬ লাখ ৯৫ হাজার ও স্ত্রী নামে জমির মূল্য ৯৫ লাখ ৬২ হাজার, স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রয়েছে ৩৯ লাখ ৩১ হাজার, ঢাকায় একটি ৮১ লাখ টাকা মূল্যে এ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।

    বাড়ি-ভাড়া, মৎসচাষ, স্ত্রী চিকিৎসা পেশায় এবং নিজে সংসদ সদস্য হিসেবে বছরে আয় করেন-২৫ লাখ টাকার উপরে।

    নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি হয়ে লিয়াকত হোসেন খোকা ও তার স্ত্রীর সম্পদ ৪৪ গুণ বেড়েছে। এবারও তিনি আওয়ামী লীগ ও জোট থেকে এ আসনের প্রার্থী। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন- ব্যবসা থেকে আয় ৮১ লক্ষ ৬ হাজার ২৮৮ টাকা এবং ব্যবসা বহির্ভূত আয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ১৭ লক্ষ ৫ হাজার ৭৫০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত টাকার পরিমান আইএফআইসি ব্যাংকে ৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩১৫ টাকা, এই ব্যাংকে অপর একাউন্টে ৮৭ হাজার ৫১০ টাকা আছে। উত্তরা ব্যাংকে ২ হাজার ৫৬৭ টাকা, অগ্রণী ব্যাংকে ২২ হাজার ৫৫০ টাকা।

    অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে আরো আছে বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার ৮ লক্ষ টাকা ও ঈশা খাঁ এগ্রো লিমিটেডে ৯ লক্ষ টাকা।

    যদিও ২০১৪ সালে দেয়া হফলনামায় তিনি নিজেকে চাকুরীজীবী উল্লেখ করেছিলেন। তখন অস্থাবর সম্পদ হিসেবে নগদ ২ লক্ষ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ টাকা জমা ছাড়াও যৌথ মালিকানায় ২টি ভিটি জমি আছে। যার একটি ৮ শতাংশের মধ্যে ৭ ভাগের ১ ভাগ এবং অন্যটিতে ১৫ শতাংশের মধ্যে ৭ ভাগের ১ ভাগ মালিকানায় রয়েছে। এছাড়াও ১৭ শতাংশের একটি মার্কেটের ৭ ভাগের ১ ভাগ মালিকানায় আছে উল্লেখ করেন। তখণ স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর অস্থাবর সম্পদ নেই উল্লেখ করা হয়। কিন্তু গত ৫ বছরে তাঁর স্ত্রী কোটিপতি বনে গেছেন। ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ছাড়াও কয়েকটি জমি কিনেছেন তিনি।

     

    নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীই অঢেল সম্পদের মালিক। দুইজনই নিজেদের ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন। হফলনামায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমান উল্লেখ করেছেন- নগদ টাকার পরিমান ১০ লাখ ৮২ হাজার ৫৭০ টাকা। এছাড়া স্ত্রীর হাতে ১৩ লাখ ৬০ হাজার ৮৮২ টাকা এবং তার নির্ভরশীলদের হাতে ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা রয়েছে। চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তার বাৎসরিক আয় ২২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। শেয়ারের সঞ্চয়পত্র ও জামানত থেকে সুদ ১৩ রাখ ৬৩ হাজার ৬৮১ টাকা। তার স্ত্রী সালমা ওসলাম লিপিও ব্যবসায়ী। তিনি বাৎসরকি আয় করেন-২২ রাখ ৪৫ হাজার টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও জামানত থেকে সালমা ওসমান লিপি বাৎসরিক ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আয় করেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ হাজার ও স্ত্রীর নামে ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জমা রয়েছে।

     

    অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী শিল্পপতি শাহ আলমের হাতে নগদ টাকার পরিমাণই ৬ কোটি ২৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৩ টাকা। এছাড়া স্ত্রীর হাতে ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮০ টাকা। এবং তার নির্ভরশীলদের হাতে ৭৮ লাখ ৪১ হাজার ৮৮২ টাকা রয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও জমি-বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ মিলে তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক।

     

    নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী সেলিম ওসমান। হলফনামায় তিনি ৫টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে শুধুমাত্র কৃষিখাত থেকে বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন-৫৩ রাখ ৪০ হাজার, স্ত্রী-ও একই খাতে আয় করেন-৪৬ লাখ ৮০ হজার ৯৪০ টাকা। সেলিম ওসমান উইজড্যাম নামের একটি রপ্তানীমুখি প্রতিষ্ঠানে মালিক। ওই খাতে তার আয়ের বিষয়টি উল্লেখ নেই। তার স্ত্রী ও কন্যা ব্যবসাখাত থেকে বছরে ১ কোটি ২০ টাকা আয় করেন। যদিও গত এক বছরে তিনি তার সংসদীয় এলাকায় প্রায় ৭ কোটি নিজ তহবিল থেকে দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন।

    নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী সাবেক এমপি এস এম আকরামের সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। বেড়েছে তার স্ত্রীর সম্পদও। ২০১৪ সালে উপ নির্বাচনে হলফনামায় তিনি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৮০ লাখ ৮৬ হাজার ২৪৪ টাকা দেখান। গত সাড়ে ৪ বছরে তাঁর সম্পত্তির মূল্য বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ৬৬১ টাকা। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ছিল ৪৯ লাখ ৭৪ হাজার ৯২ টাকা, তা বেড়ে এবার হয়েছে ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯৭ টাকা।