বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯ ,২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার , ৬ : ৫১ অপরাহ্ন

  • ‘৪৩ গুণ সম্পদের কলঙ্ক’ নিয়ে মাঠে খোকা

    x

    Decrease font Enlarge font

    09টাইমস নারায়ণগঞ্জ (সোনারগাঁ প্রতিনিধি): ‘৪৩ গুণ সম্পদের কলঙ্ক’ নিয়ে মাঠে নেমেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মহাজোটের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা। সম্পদের কলঙ্ক শুধু নিজেই লাগাননি মেখেছেন স্ত্রী ডালিয়া লিয়াকতের গায়েও। গণসংযোগের যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই ভোটারদের ওই সম্পদের আলোচনা করতে শোনা যাচ্ছে।শুধু তিনি নন, মাঠে নেমেছেন তার স্ত্রীও।

    সাধারণ ভোটারদের ধারণা, পাঁচ বছর ব্যবধানে ৪৩ গুন সম্পদ বাড়ার বিষয়টি লিয়াকত হোসেন খোকার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। শুধু এই ‘কলঙ্ক’ নয়, ভোটের হিসেবেও পিছিয়ে আছেন জাতীয় পার্টির এই কেন্দ্রীয় নেতা। এ আসনে সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত এখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কায়সারের জন¯্রােত বেশ বেকায়দায় ফেলেছে খোকাকে। তাছাড়া বিপরীতে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থীতো রয়েছেই। সবমিলিয়ে খোকার এ যাত্রায় বৈতরণী পার হওয়া বেশ দূরুহ।

    ৪৩ গুন বেড়েছে সম্পদ পেশাও বদলেছেন খোকা::

    সংসদ সদস্য হয়ে পাঁচ বছরেই সম্পদ বেড়েছে ৪৩ গুন, বদলে গেছে পেশাও। জাতীয় পার্টির নেতা লিয়াকত হোসেন খোকার ২০১৪ সালে দেয়া হলফনামায় সম্পদের পরিমাণের চেয়ে বর্তমানে সম্পদ ৪৩ গুন বেশি। শুধু তাই নয়, স্ত্রীও বনে গেছেন কোটিপতি।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রির্টানিং অফিসারের কাছে জমা দেয়া হলফনামা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ২০১৪ সালে তিনি নিজেকে চাকুরীজীবি উল্লেখ করলেও এবার ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়েছেন।  

    যদিও সাধারণ মানুষের ধারণা হফলনামায় দেয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থী খোকার এসব সম্পদের বাইরেও অনেক সম্পদ রয়েছে।

     

    জাতীয় পার্টি থেকে লিয়াকত হোসেন খোকা এবারও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারও তিনি আওয়ামী লীগ ও জোট থেকে এ আসনের প্রার্থী। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন-ব্যবসা থেকে আয় ৮১ লক্ষ ৬ হাজার ২৮৮ টাকা এবং ব্যবসা বহির্ভূত আয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ১৭ লক্ষ ৫ হাজার ৭৫০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত টাকার পরিমান আইএফআইসি ব্যাংকে ৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩১৫ টাকা, এই ব্যাংকে অপর একাউন্টে ৮৭ হাজার ৫১০ টাকা আছে। উত্তরা ব্যাংকে ২ হাজার ৫৬৭ টাকা, অগ্রণী ব্যাংকে ২২ হাজার ৫৫০ টাকা।

    অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে আরো আছে বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার ৮ লক্ষ টাকা ও ঈশা খাঁ এগ্রো লিমিটেডে ৯ লক্ষ টাকা।

    যদিও ২০১৪ সালে দেয়া হফলনামায় তিনি নিজেকে চাকুরীজীবী উল্লেখ করেছিলেন। তখন অস্থাবর সম্পদ হিসেবে নগদ ২ লক্ষ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ টাকা জমা ছাড়াও যৌথ মালিকানায় ২টি ভিটি জমি আছে। যার একটি ৮ শতাংশের মধ্যে ৭ ভাগের ১ ভাগ এবং অন্যটিতে ১৫ শতাংশের মধ্যে ৭ ভাগের ১ ভাগ মালিকানায় রয়েছে। এছাড়াও ১৭ শতাংশের একটি মার্কেটের ৭ ভাগের ১ ভাগ মালিকানায় আছে উল্লেখ করেন। তখণ স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর অস্থাবর সম্পদ নেই উল্লেখ করা হয়। কিন্তু গত ৫ বছরে তাঁর স্ত্রী কোটিপতি বনে গেছেন। ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ছাড়াও কয়েকটি জমি কিনেছেন তিনি।

     

    যদিও এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য লিয়াকত হোসেন খোকার মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।