শনিবার, এপ্রিল ২০, ২০১৯ ,৬ বৈশাখ ১৪২৬
১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার , ৩ : ৪৬ অপরাহ্ন

  • শাহ আলমকে ‘ডুবিয়ে’ প্রমোদভ্রমণে রিয়াদ চৌধুরী

    x

    Decrease font Enlarge font

    05টাইমস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির অন্যতম প্রার্থী শাহ আলমকে ‘ডুবিয়ে’ দিয়ে প্রমোদভ্রমণে বেরিয়েছেন রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। দলের নেতাকর্মীরা যখন মামলা কাধে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ঠিক তখনই স্বস্ত্রীক সমুদ্রস্নানে গা ভেজাচ্ছেন ছাত্রদলের সাবেক এই ‘চতুর’ নেতা।

    শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রমাদেভ্রমণের এসব ছবি নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

    শুক্রবার সরকার ‘উৎখাতের’ অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা তিনটি মামলায় আসামী ১৭০ জনকে আসামী করা হয়। এর বেশির ভাগই বিএনপি নেতাকর্মী। এরমধ্যে ফতুল্লায় দু’টি ও সদর থানায় একটি। ফতুল্লায় দু’টি মামলায় ১৩১জন ও সদরে ৩৯ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখযোগ্য বিএনপি নেতারা হচ্ছেন-মহানগর যুবদলের সভাপতি ও কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুর রহমান রশো, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সহসভাপতি এড. হুমায়ূন কবির, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান ছক্কু।

    তবে কোন মামলায়ই রিয়াদের নাম নেই।

    নেতাকর্মীদের মতে, সবসময় ‘কৌশলে চলা পদবাগানো’ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এই যুগ্ম আহবায়ক ছাত্রদলের রাজনীতির শুরুর সময় থেকে চতুর হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় দলের নেতাকর্মীদের নামে মামলা-হামলা হলেও তিনি নিরাপদ থেকেছেন সবসময়।

    05-2ফতুল্লা বিএনপির একাধিক নেতার অভিযোগ, রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া একটি ছবিই কাল হয়ে দাড়াঁয় বিএনপির প্রার্থী শাহ আলমের জন্য। মনোনয়ন পাবার ঠিক পরের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ওই ছবিতে দেখা গেছে, শাহ আলম ও রিয়াদ চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর সাথে হাস্যেজ্জ্বল ভঙিতে বসে আছেন।

    মোহাম্মদ আলী একসময় বিএনপির মুরুব্বী বলে পরিচিত হলেও এখন তিনি ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠজন। প্রকাশ্যে বিভিন্ন সভায় সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের গুণর্কীতন করে ভোট চাইছেন। ফলে মোহাম্মদ আলী বিএনপির কালো তালিকায় চলে এসেছেন।

    বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবি কেন্দ্রে দেখানো হয়েছে। ওই ছবি দেখে কেন্দ্রের ধারণা হয়েছে শামীম ওসমানের পক্ষ নিয়ে মোহাম্মদ আলী শাহ আলমকে প্রভাবিত করতে পারেন। এমনকি ম্যানেজের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। পরে কেন্দ্র শাহ আলমকে পরিবর্তন করে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নেতা মুফতি কাশেমীকে চূড়ান্ত করে।

     

    ফেইসবুকে ছবিটি দেয়া প্রসঙ্গে ফতুল্লা থানা বিএনপির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রিয়াদ খুব বুদ্ধিমান। কাজটি সে সচেতনভাবেই করেছে।

    তবে এসব বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহ আলম।

    অন্যদিকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী।