বুধবার, জুন ২৮, ২০১৭ ,১৩ আষাঢ় ১৪২৪
০৫ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার , ৩ : ২৭ অপরাহ্ন

  • মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমানের কিছু কথা...

    x

    Decrease font Enlarge font

    09টাইমস নারায়ণগঞ্জ: বছর ঘুরে বিজয়ের মাস ঘরে ফিরে আসায় আবারো স্বাধীনতা অর্জনের মহা আনন্দ বিরাজ করছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শিবিরে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন দুস্থ,অসহায় আর বেকারত্বের গ্লানি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গী করে আজ স্বাধীনতা বিজয়ের স্বাদ খুজে ফিরছেন।

    একান্ত স্বাক্ষাৎকারে টাইমস্ নারায়ণগঞ্জকে দেয়া এক বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানাধীন মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ষোল্লপাড়া এলাকার মৃত আবু আহাম্মদের বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মো: শফিউর রহমান বলেন,আমি যুদ্ধাকালীন ২নং সেক্টরে গ্রুপ কমান্ডার ছিলাম। ১৯৭০ সালে এস এস সি পাশ করে কলেজে ভর্তির পর ১ম বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে আমি যুদ্ধে গিয়েছিলাম।

    যুদ্ধকালীন সময়ে তৎকালীন চিলারবাগ বর্তমান শহীদ মজনু র্পাক। এই পার্কে পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখে যুদ্ধ হয়। এই সময় আমার সাথে সিদ্দিকুর রহমান, শাহাজালাল, রাজা, আসলাম, আব্দুল মতিন, দুলাল, মনিরুজ্জামান, ওসমানগনি, সেলিম রেজা, খন্দকার নাসির, মরহুম রহমান, মরহুম বজলুর রহমান, ইব্রাহীম খলিল সহ ১৫ জনের বেশী মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম।

    গ্রুপ কমান্ডার ইব্রাহীম খলিলের নির্দেশে টু আইসি মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে আমরা সম্মুখে যুদ্ধে উপনীত হই। ওরা ছিল ৬ জন  একজন পাগলা মেজর পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাকি ৫জন নিহত হয়। সেদিন খুব বেশী আনন্দিত হয়েছিলাম।

    আমি একজন অর্থহীন, অসহায়, বেকার, প্রহসনের ও বিভিন্ন মামলার শিকার এক দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা। আমার প্রতিপক্ষ অত্যন্ত প্রভাবশালী সরকার দলীয় একজন  সাবেক জনপ্রতিনিধি তার অত্যাচার নির্যাতনে আমি ক্ষতিগ্রস্থ নিষ্পেষিত। তিনিও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। কিন্তু তার প্রভাবের কারনে আমি ন্যায় বিচার থেকে বরাবরই বঞ্চিত।

    আমার এক ছেলে এক মেয়ে, ছেলে বড় এস এস সি পাশ করার পর থেকে মানসিক প্রতিবন্ধী, প্রায় ১০ বছর ধরে এই অবস্থা অনেক চেষ্টা করেও কোন সরকারী সহয়তা পাইনি। প্রতিপক্ষ জনপ্রতিনিধি ছিল তাই দারস্থ হইনি।

    বর্তমানে সোনারগাঁ থানা আলীগের আমি দপ্তর সম্পাদক। তবুও আমি নিতান্তাই অসহায়।