রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৯ ,৫ ফাল্গুন ১৪২৫
২৭ জানুয়ারী ২০১৯ রবিবার , ৬ : ৩১ অপরাহ্ন

  • উৎকোচও নিল মামলাও দিল!

    x

    Decrease font Enlarge font

    004টাইমস নারায়ণগঞ্জ: ৩৪ ধারায় মামলা দায়েরের আশ্বাসে পৌনে চার লাখ টাকা উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়,  টাকা আত্মসাৎ করে বিয়ারের পরিবর্তে মদ উদ্ধার দেখিয়ে মামলা করা হয়। যদিও এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ডিবির অভিযুক্ত সদস্যরা। তাদের বক্তব্য, অভিযোগ থেকে বাঁচতেই পরিবারের সদস্যরা এখন হয়তো নাটক সাজানোর চেষ্টা করছেন। তবে গ্রেফতারকৃত যুবকদের অভিভাবকরা বলছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ করার সাহস কারো নেই।

    গত ২৪ জানুয়ারী সন্ধ্যায় নগরীর উত্তর চাষাঢ়ায় হোয়াইট হাউজ নামের একটি রেস্তঁরার সামনে থেকে আল আমিন, স্বপ্রব, তুহিন, অনিক ও শাহরিয়ার খান নামের পাঁচজনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে শাহরিয়ার খাঁন বিএনপি নেতা এড. সাখাওয়াত হোসেন খাঁনের পুত্র। শাহরিয়ার খাঁনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও অন্য চারজনকে মদ সহ গ্রেফতার মামলায় চালান করা হয়। তবে গ্রেফতারকৃতদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রথমে ছেড়ে দেবার করা বলে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে উৎকোচ দাবি করা হয়। বেশ দেনদরবারের পরে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকায় মধ্যস্থতা হয়। এক পর্যায়ে অভিভাবকদের ডেকে নিয়ে জানানো হয়, বিষয়টি পুলিশের উর্ধ্বতনরা জেনে গেছেন, তাদের ছাড়া সম্ভব নয়। তবে তাদের ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হবে। কিন্তু পরে টাকা হাতিয়ে নিলেও ওই চারজনকে মদসহ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। স্বজনদের অভিভাবকদের অভিযোগ, ডিবির এসআই অরিফের নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৫ জনকে আটকের পর একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে শহরের ঘুরে বেড়ায়। প্রায় এক ঘণ্টা গাড়িতে নিয়ে ঘুরার পর তাদের পরিবারকে ফোনে জানানো হয় তাদের সন্তান মাদক সহ গ্রেফতার হয়েছে। তাদের ছাড়াতে হলে জনপ্রতি দেড় লাখ টাকা লাগবে যার জন্য আধা ঘণ্টা সময় বেধে দেয় ডিবির সদস্যরা। পরে স্বজনেরা ওই গাড়ির সামনে হাজির হয়। সেখানে চলে দর কষাকষি। পথেই শাহরিয়ারকে ছেড়ে দিয়ে বাকিদের নিয়ে পুলিশ সদস্যরা চলে আসেন ডিবি অফিসে। সেখানে আবারও পরিদর্শক হুমায়ুন ও এসআই আরিফের সঙ্গে দর কষাকষি হয়। কিন্তু এবার ছেড়ে দেয়া নয়, ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো নিয়ে। এতেও পরিবারের সদস্যরা রাজি হয়। তাদের দেয়া হয় তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু পরদিন ডিবির সদস্যরা ৪ বোতল দেশীয় মদ সহ  গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠায়। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নেয়া ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকাও হজম করে ওই পুলিশ সদস্যরা।

    যদিও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন  খাঁন।

    তবে ওইসময় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মোহাম্মদ নূরে আলম জানান, পানীয় পান করার সময় সাখাওয়াত হোসেন খানের ছেলেকে আটক করে ডিবি। পরে মুচলেকায় ছেড়ে দেয়া হয়। রোববার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মোহাম্মদ নূরে আলমকে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

    তবে ডিবির পরিদর্শক হুমায়ন বলেন, ডিবির একটি টিম তাদের আটক করে। ওই সময় আমি সেখানে ছিলাম না। তিনি আরো বলেন, টাকা নেয়ার অভিযোগ মিথ্যা। মাদক সহ গ্রেফতার হয়েছে সেহেতু তাদের পরিবার অনেক ধরনের কথা বলতে পারেন।