মঙ্গলবার, মার্চ ১৯, ২০১৯ ,৫ চৈত্র ১৪২৫
১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ রবিবার , ২ : ১০ অপরাহ্ন

  • রূপগঞ্জে গড়ে উঠছে অবৈধ ডাইং কারখানা

    x

    Decrease font Enlarge font

    003টাইমস নারায়ণগঞ্জ (রূপগঞ্জ প্রতিনিধি): রূপগঞ্জের যত্রতত্র গড়ে উঠছে অবৈধ ডাইং কারখানা। মানছে না কোন নিয়মনীতি। অধিকাংশ কারখানায় নেই কোন সাইনবোর্ডও! এসব কারখানার বর্জ্যের পানিতে পরিবেশ দূষন হয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকাবাসি। কারখানাগুলোর কোন প্রকার লাইসেন্স না থাকায় সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই  রূপগঞ্জে এ রকম শতাধিক ডাইং কারখানা চলছে।

    জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল সাওঘাট এলাকায় রয়েছে নুরে মদিনা ডাইং, সাওঘাট কাতরারচক এলাকায় ফুজি ডাইং ও মিতা ডাইং, গোলাকান্দাইল হাট সংলগ্ন পূর্বপাড়া এলাকায় হাসান ডাইং, গোলাকান্দাইল উত্তর পাড়া এলাকায় জামান ডাইং কারখানা পরিবেশ দুষনে দায়ী বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ডাইং কারখানা পরিবেশ দূষনের জন্য যেমন দায়ী তেমনি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি করছে। এদের দূষিত বর্জ্যরে পানি ফসলী জমিতে সরাসরি গিয়ে পড়ছে। এতে করে গোলাকান্দাইল, সাওঘাট, মাহনা, আধুরিয়া ও দড়িকান্দি এলাকার প্রায় ৭শ একর জমির ফসল বিনষ্ট হচ্ছে। এসব জমিতে সারা বছর কালো পানি জমে থাকার কারনে কোন প্রকার ফসল ফলাতে পারছেনা কৃষকরা। এতে করে কম মূল্যে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

    গোলাকান্দাইল পূর্বপাড়া এলাকায় গ্রামের ভিতরে হাসান ডাইং কারখানা গড়ে উঠার ফলে  এলাকাবাসী পড়ছে স্বাস্থ্য ঝুকিতে। এলাকার অনেকেই বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।   এ কারখানার বর্জ্যেও পানি সরাসরি টাটকী খালে গিয়ে পড়ছে। এতে গোলাকান্দাইল ও দড়িকান্দি মৌজার কয়েক শ’ একর জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলেও কোন কর্ণপাত করছে না কারখানা কর্তৃপক্ষ।

    হাসান ডাইং কারখানার আশপাশে প্রায় ৪ হাজার পরিবার স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। কারখানাটি গত ২ বছর যাবত চালু রয়েছে। গ্যাস সংযোগ না পেয়ে কয়লা কাঠ দিয়ে কারখানাটি চালিয়ে আসছে। ফলে কারখানার কালো ধুয়া ও ক্যামিকেল মিশ্রিত পানিতে এলাকাবাসীর শরীরে নানা ধরনের রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। ম্যালেরিয়া, শ্বাসকষ্ট, এজমাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছে লোকজন। এতে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। এলাকার বেশীরভাগ মানুষ গরীব বলে অনেকেই চিকিৎসার টাকা জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। এ সুযোগে কাখানার মালিক হাসান মিয়া এলাকার অনেক অসহয় গরীব শিশুদের দিয়ে কম বেতনে কারখানার কাজে নিচ্ছে। এতে করে শিশুরা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অমান্য করা হচ্ছে শিশুশ্রম আইন।

    জানা যায় ডাইং কারখানার মালিক মোঃ হাসান মিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও ইটিপি প্লান না নিয়েই এই জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে কারখানা নির্মাণ করে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করে আসছে।

    গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মোঃ ইলিয়াস জানান, এলাকায় বিভিন্ন ডাইং কারখানার ক্যামিকেল মিশ্রিত বর্জ্যের পানি পুকুর, ডোবা, খাল-বিলে জমা হচ্ছে। আর এই পানিতে রোগবাহী মশা মাছি সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে চুলকানি ও ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু-বৃদ্ধসহ সববয়সী মানুষ। এসকল রোগিদের স্থানীয় হাসপাতালগুলো চিকিৎসা দিতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হক জানান, শিশুশ্রম বেআইনী। তাছাড়া জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কারখানা নির্মাণ করে পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে না। খুব শিগগির এসব কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।