রবিবার, মে ২৬, ২০১৯ ,১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ শনিবার , ৪ : ৩৩ অপরাহ্ন

  • রূপকথার গল্পকে হার মানানো সেই আমজাদ মাস্টার বহাল!

    x

    Decrease font Enlarge font

    33টাইমস নারায়ণগঞ্জ: সারাদেশে দূর্নীতিবিরোধী অভিযানের মধ্যেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন দূর্নীতির বরপুত্র সদর উপজেলার বক্তাবলীর কানাইনগর ছোবহানীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন। শুধু বহাল তবিয়তেই নয়, শত সহস্র অভিযোগের পরে তার বেতনও বেড়েছে! এ যেন হীরকরাজার রাজ্য। আমজাদ মাস্টারের হাতের জাদুর কাঠি দিয়ে ছুঁয়ে দিয়েই বশ করিয়ে নেন সবাইকে।

    কানাইনগর ছোবহানীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন ৯ বছরের মেয়াদকালে তাঁর দুর্নীতির খতিয়ান রূপকথার গল্পকেও হার মানিয়েছে। স্কুলটির সাবেক শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে দুর্নীতির এ মহাকা-! অনিয়ম দূর্নীতি শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি তাঁর মেয়দকালে ২ কোটি ৩৪ লক্ষ ৬০ হাজার ১শত ৬৭ টাকা দূর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। এ কারণে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেনের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্নখাতে তাঁর দুর্নীতির খতিয়ান জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন-বিদ্যালয়ের ১৯৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। বছরখানেক ধরেই তার বিরুদ্ধে চলছে আন্দোলন সংগ্রাম। পদচ্যুত ও দূর্নীতির তদন্তের এ দাবি মাঝে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অকস্মাৎ স্কুলে পরিদর্শনে এলে কক্ষ তালা মেরে পালিয়ে গিয়ে বাঁেচন এই শিক্ষক। এতকিছুর পরেও জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় এ শিক্ষকের বেতন বেড়েছ মাসিক তিন হাজার টাকা। স্থানীয় গণমাধ্যম এসব নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে ব্যস্ত থাকলেও এর কিছুই জানেন না স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। কিন্তু বেতন বৃদ্ধির সুপারিশের সই করতে একটু বিলম্ব করেননি। আন্দোলনকারীদের দেয়া তথ্যমতে, আমজাদ হোসেন স্কুলের পূন:ভর্তি বাবদ ৩২ লক্ষ ৭৬ হাজার, বিলম্ব অনুপস্থিত বাবদ ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, খেলাধুুলা খাতে ৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, নির্মাণ খাতে ৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, গ্রায়াচুটি বাবদ ১২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৮ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা, মিলাদ বাবদ ৮ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা, দূস্থ: তহবিলের ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, পাঠাগারের ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, গবেষণার ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, সাংস্কৃতিক খাতে ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, স্কাউটের ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, উন্নয়নের ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, কম্পিউটারের ৬ লক্ষ ৩০ হাজার, মসজিদ ফান্ডের ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, অগ্রগতি পত্র বাবদ ৫লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা, মনোগ্রাম বাবদ ৫ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা, এসএসসি পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরন বাবাদ অতিরিক্ত ২৮ লক্ষ ৩ হাজার ১ শত ৬৭ টাকা, কৃষি ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা বাবদ ৮ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা, উপবৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীদের সরকারি অনুদানের ৫ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ করেন। এর প্রমাণ হিসেবে স্কুলের রশিদ ও ব্যাংক এ্যাকাউন্ট সহ নানা তথ্য-উপাত্ত্ব তুলে ধরা হয়। শুধু এসব তথ্য উপাত্ত্বই নয়, এসব দূর্নীতির তদন্তের দাবি জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি দপ্তরে দেয়া আবেদনও ধুলোই শুধুই জমেছে।