রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৯ ,২৮ আশ্বিন ১৪২৬
১৬ মার্চ ২০১৯ শনিবার , ৭ : ৩১ অপরাহ্ন

  • আনোয়ারেই উজ্জীবিত বক্তাবলীর তারুণ্য!

    x

    Decrease font Enlarge font

    007টাইমস নারায়ণগঞ্জ: দিনে দিনে সদর উপজেলার বক্তাবলীতে আওয়ামী লীগের অবস্থান সংহত হচ্ছে। একসময় বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত নদীবেষ্টিত সবুজ-শ্যামল এই ইউনিয়নটিতে এখন দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করেছে। বিএনপির ‘ভোটব্যাংক’ এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান বেশ পোক্ত। শুধু ভোটের হিসেব নয়, দল ও দলের অঙ্গসংগঠনগুলোর কর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয় রাজনীতিকদের ধারণা, এভাবে যদি আরও কিছু বছর দলের প্রাণচাঞ্চল্য ধরে রাখা যায় তবে বক্তাবলী ইউনিয়নটি একসময় আওয়ামী লীগের ঘাঁটিই শুধু নয়, রির্জাভ ভোটব্যাংকেও পরিণত হতে পারে। তবে সেজন্য দল ও দলের অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের প্রতি যতœবান ও পরিচর্যার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কর্মীদের একত্রিত করা, তাদের খোঁজখবর নেয়া ও আপদে তাদের পাশে থেকে কর্মীদের লালন করার মধ্য দিয়ে কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোই নয়, ধরেও রাখতে হবে। সেই সাথে তাদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে।

    স্থানীয়দের দাবি, নেতা অনেকে হলেও সবার মধ্যে কর্মীদের একত্রিত করা ও ‘নার্সিং’ করার যোগ্যতা নেই। অনেক নেতাই কর্মীদের মাথার উপর কাঠাল রেখে খেয়ে চলেছেন। এতে একসময় কর্মীরা হতাশ হয়ে পিছুটান দেয়। ফলে নেতার ভাগ্যের পরিবর্তন হলেও দল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

    বক্তাবলীর কয়েকজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতার সাথে কথা হয় স্থানীয় রাজনীতির বর্তমান-ভবিষ্যত নিয়ে। তাদের কয়েকজন এই প্রতিবেদককে জানান, ফতুল্লা থানা যুবলীগের যুগ্মসম্পাদক আনোয়ার হোসাইন একজন দক্ষ কর্মী ও নেতা। দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি। কর্মীদের একত্রিত করা, তাদের পরিচর্যা ও রাজনৈতিক শিক্ষায় একদল তরুণকে বেশ উজ্জীবিত করে রেখেছেন।

    তাদের মতে, মধ্যবিত্ত এই নেতার অর্থের প্রাচুর্য্য না থাকলেও কৌশল এবং আন্তরিকতার জোরে নিজেকে অর্থবিত্তদের চেয়ে সংহত অবস্থানে নিয়ে গেছেন। কিশোর বয়স থেকেই রাজনীতি সচেতন এই কর্মী যে কোন দায়িত্বই পালন করেছেন নিষ্ঠা ও আনুগত্যের মাধ্যমে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতার মতে, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কোন সম্মেলন না হওয়ায় কর্মী উৎপাদনে ভাটা পড়েছে। দেড় যুগ আগের কমিটির নেতারাও আর সচল নেই। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই দু’টি অঙ্গসংগঠনের সম্মেলন হলে দক্ষ ও পরিশ্রমী কিছু কর্মী ও নেতা বেরিয়ে আসতো। কিন্তু বক্তাবলীর সিনিয়র নেতাদের সে বিষয়ে কোন আগ্রহ নেই।

    তবে এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, কর্মীদের মধ্যে দলের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে পারলে কর্মীরা উজ্জীবিত থাকে। দক্ষ কর্মী ও নেতা এক দিনে তৈরি হয় না। দিনের পর দিন রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে অব্যাহত চর্চার মধ্য দিয়ে একজন দক্ষ কর্মী তৈরি হয়। তবে দলের ভেতরে একজন দক্ষ কর্মীর যথাযথ মূল্যায়ন না হলে ভবিষ্যত প্রজন্মরা হতাশ হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে ওই কর্মীর চেয়ে দলই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

    আগামীতে দলের সম্মেলনে তাকে বড় দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে বক্তাবলীতে এমন কথা চাউর হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দায়িত্বের বড় ছোট নেই, অর্পিত দায়িত্ব নিষ্টা ও সফলতার সাথে পালন করাই মূল।

    007--1আনোয়ার হোসেন বলেন, বক্তাবলীতে আমাদের অভিভাবক হিসেবে এম শওকত আলী চেয়ারম্যান মাথার উপরে রয়েছেন। আমি জননেতা একেএম শামীম ওসমান এমপির একজন অনুগত কর্মী। কর্মী হয়েই থাকতে চাই, নেতা হবার মতো যোগ্যতা এখনও অর্জন করতে পারি নাই। তবে যে কোন দায়িত্ব পালন করার মতো সাহস ও সততার অভাব ছিলো না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।