বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৭ ,৪ কার্তিক ১৪২৪
০৬ ডিসেম্বর ২০১৫ রবিবার , ১ : ১৫ অপরাহ্ন

  • প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় পত্র জরুরী- বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান

    x

    Decrease font Enlarge font

    08টাইমস্ নারায়ণগঞ্জ: সোনারগাঁয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান একান্ত স্বাক্ষাৎকালে টাইমস্ নারায়ণগঞ্জকে দিলেন উনিশ’শ একাত্তরের রণাঙ্গনে সম্মুখ যুদ্ধে সাফল্য অর্জনের বর্ণনা।

    তিনি বলেন, যুদ্ধকালীন সময়ের অসংখ্য স্মৃতির মাঝে একটা স্মৃতি আমার খুব বেশী মনে পরে। তা হলো সোনারগাঁয়ের চিলারবাগ এলাকার শহীদ মজনু র্পাক। যে পার্কে পাক বাহিনীর সাথে আমাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এই সময় আমার সাথে আমার গ্রুপ কমান্ডার ছিলেন ইব্রাহীম খলিল। আমি ছিলাম এ ইউনিটের টু আই সি। আর সিদ্দিকুর রহমান, শাহাজালাল, রাজা, আসলাম, আব্দুল মতিন, দুলাল, শফিউর রহমান, ওসমানগনি, সেলিম রেজা, খন্দকার নাসির, রহমান(বর্তমানে মৃত), মরহুম বজলুর রহমান, সহ ১৫ জনের বেশী মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম এই অপারেশনে।

    গ্রুপ কমান্ডার ইব্রাহীম খলিলের নির্দেশে আমরা সম্মুখে যুদ্ধে উপনীত হই। প্রতিপক্ষের ওরা ছিল ৬ জন একজন পাগলা মেজর পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সেদিন বাকি ৫জন নিহত হয়। সেদিনের আনন্দ আজও মনকে একজন যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে গর্ব করতে উৎসাহিত করে।

    বীর মুক্তিযোদ্ধা আরও জানান, তিনি সোনারগাঁ পৌরসভাধীন আমিনপুর হাতকোপা এলাকার মৃত মোঃ গিয়াসউদ্দিন মিয়ার ছেলে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি যুদ্ধে গিয়েছিলেন এবং তৎকালীন ২নং সেক্টরের গ্রুপ কমান্ডার ইব্রাহীম খলিলের গ্রুপে টু আই সি’র দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

    মনিরুজ্জামান জানান, আমার ২ ছেলে দু’জনই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে সফট্ওয়্যার ইঞ্জিনিয়রিংয়ে পড়ে। বিগত ৪০ বছর দুঃখ ছিল। কারণ তখন মূল্যায়ন ছিল না। এখন এই সরকার আমলে আমরা অনেক ভাল আছি। তাছাড়া বর্তমানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, রায় হচ্ছে, ফঁসি কার্যকর হচ্ছে, এটাই আমাদের অনেক বড় পাওয়া।

    এখন এই বিজয়ের মাসে শুধু সরকারের কাছে এইটুকুই প্রত্যাশা করি যেন আমাদের একটা পরিচয় পত্র তথা ফ্রিডম ফাইটার আইডেনটিটি কার্ড করে দেন। কেননা বিগত সরকার আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিছু লোক ভূয়া সনদে মুক্তিযোদ্ধা সেজেছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আইডেন্টি কার্ড থাকলে ঐ ভূয়াদের চিহ্নিত করতে সুবিধা হবে।