রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৯ ,২৮ আশ্বিন ১৪২৬
২৫ আগস্ট ২০১৯ রবিবার , ১০ : ২৩ অপরাহ্ন

  • পঞ্চায়েত ভাঙ্গার নতুন মিশনে মান্নান!

    x

    Decrease font Enlarge font

    T-0006টাইমস নারায়ণগঞ্জ (ফতুল্লা প্রতিনিধি): এবার পঞ্চায়েত ভাঙ্গার নতুন মিশনে নেমেছেন ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ‘আদুভাই’ খ্যাত এম এ মান্নান। ফতুল্লার মুসলিমনগরে দীর্ঘদিনের পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে ভাঙতে পঞ্চায়েত কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দিয়ে সুচতুর মান্নান নিজের স্বার্থ হাসিলের খেলায় নেমেছে।

    মুসলিমনগরে মান্নানের বেপরোয়া চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় পঞ্চায়েত কমিটির বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের ক্ষোভের প্রেক্ষিতে গত ২১ আগস্ট শোক দিবসের অনুষ্ঠানে অতিথিদের সামনেই মান্নানকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। নিজের এলাকায় অবাঞ্ছিত হবার পরেই মান্নান ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নানা ফন্দি-ফিকির শুরু করে। নিজেকে ক্ষমতাবান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এলাকার মুরুব্বিদের নামে নানা কুৎসা রটনা করছেন তার সন্ত্রাসী বাহিনীর লোক দিয়ে ।

    ডিস ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিয়েও সে ক্ষান্ত হয়নি। জানা গেছে এলাকার আওলাদ হোসেনের ডিশ ব্যবসা হাতিয়ে নিতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকার সোহেলের নাম করে সে তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায় ।

    এলাকাবাসীর দাবি, মুসলিমনগর আদর্শ পাঠাগারের সভাপতি হতে সে জামাত বিএনপির সাথে আঁতাত করে মরিয়া হয়ে উঠে। এবং পরবর্তীতে সে জামাত বিএনপির লোকদের প্রাধান্য দিয়ে পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে। পদের লোভে প্রয়োজনে যে কারো সাথেই আঁতাতে সিদ্ধহস্ত এই চতুর ছাত্রনেতা।

    স্থানীয়রা জানায়, ছাত্রলীগ নেতা মান্নানের পরিবাবরের সবাই বিএনপি জামাতের হলে সে উপরের মহলের নেতাকে ম্যানেজ করে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের পদ বাগিয়ে নেয় । ২০০১ সালে বিএনপি জামাতের সময় এলাকায় তার কোন সমস্য না থাকলেও নিজেকে নির্যাতিত প্রমাণের জন্যই সে বাইরে অবস্থান করে।

    এলাকার কয়েকজন প্রবীণ জানান, দরিদ্র পরিবারের সদস্য হলেও চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এখন সে কোটি কোটি টাকার মালিক। এবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেই সে দুই দু’টি বাড়ির মালিক বনে যায়। টাকা ও ক্ষমতার গরমে সে এখন এলাকার মুরব্বীদেরও সম্মান করছেন না । সর্বক্ষেত্রে তার কর্তৃত্ব বজায় রেখে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন। তাতে বাঁধ সাধেন এলাকার পঞ্চায়েত কমিটির মুরব্বিরা। এ কারণেই ক্ষিপ্ত হয়ে একের পর এক অঘটন ঘটিয়ে যাচ্ছেন মান্নান। পরবর্তীতে পঞ্চায়েত তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষাণার পর সে আরো বেপরোয়া হয়ে তাদের নামে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

    স্থানীয়দের দাবি, মান্নান এলাকায় ময়লা ফেলার গাড়ি থেকেও চাঁদা উঠাচ্ছে। শুধু ময়লার গাড়িই নয়, এলাকার এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে সে চাঁদাবাজি করে নি। এমনকি মুসলিমনগর কে এম উচ্চ বিদ্যালয়কে ব্যবহার করে কিন্ডার গার্টেন চালু করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। স্কুলের ভেতরে কি-ার গার্টেন চালু থাকায় উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে এবং স্কুলের ফলাফল দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

    তবে এসব বিষয়টে নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে দাবি করেন এম এ মান্নান। তিনি বলেন, এলাকার পঞ্চায়েত দু’টি পক্ষের অপরাজনীতির শিকার আমি।