বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৩, ২০১৭ ,৮ চৈত্র ১৪২৩
১৩ ডিসেম্বর ২০১৫ রবিবার , ৩ : ৩৯ অপরাহ্ন

  • বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের হাতে তুলে দিয়েছিল পবিত্র পতাকা -বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম এ রশিদ

    x

    Decrease font Enlarge font

    টাইমস নারায়ণগঞ্জকে দেয়া একান্ত স্বাক্ষাৎকারে বন্দর থানা আ’লীগের সভাপতি

    04
    টাইমস নারায়ণগঞ্জ: বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ব্যাপকভাবে বিকৃত করা হয়েছিল। তাছাড়া ওরা রাজাকার তথা একাত্তরের মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের হাতে তুলে দিয়েছিল আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতার পবিত্র অবলম্বণ লাল-সবুজের পতাকা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার প্রকৃত সেই ইতিহাস পূণরুদ্ধার এবং পতাকার সম্মান রক্ষায় নিয়েছেন কার্যকরী পদক্ষেপ এবং সর্বক্ষেত্রে হয়েছেন সফল। আজ স্বাধীনতার শত্রু ঐ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, বিচারের সর্বোচ্চ রায় মৃত্যুদন্ডও একের পর এক সফলভাবে কার্যকর হচ্ছে, একমাত্র বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনার যথাযথ সাহসী পদক্ষেপের কারণে। মহান এই বিজয়ের দিনে আমাদের মত মুক্তিযোদ্ধাদের এর বেশী কোন চাওয়া থাকতে পারে না। এটাই আমাদের জন্য বিজয়ের গৌরব আনন্দ।  টাইমস নারায়ণগঞ্জকে দেয়া একান্ত স্বাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেছেন বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধামগড় সোনাচড়া এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের সাহসী সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম এ রশিদ।

    মহান বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের এই দিনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে টাইমস নারায়ণগঞ্জকে তিনি এসব কথা বলেন।

    ঊনিশ’শ একাত্তরে ১৮ বছরের টগবগে তরুণ এম এ রশিদ ছিলেন তৎকালীন বন্দর থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক এবং থানার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সুযোগ্য আহ্বায়ক। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতৃত্বের বাহাদুর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র আহ্বানে সেদিন এই যোদ্ধা বাংলাদেশ লিভারেশন ফ্রন্ট (বিএলএফ) তথা গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বি এল এফ এর ৮টি সেক্টরের প্রধাণ হিসেবে তখন নেতৃত্ব ছিলেন সিরাজুল আলম খাঁন, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ ও শেখ ফজলুল হক মণি। বেশ সাহসী ও তীক্ষ্ম বুদ্ধির অধিকারী বিধায় এই তরুণ যোদ্ধাকে গেরিলা যোদ্ধাদের ৭/৮ জনের একটি গ্রুপ কমান্ডারের দায়িত্ব পালণ করেছেন এম এ রশিদ। স্বাক্ষাৎকালে এই প্রতিবেদককে এমনটাই জানালেন তিনি।

    যুদ্ধকালীন স্মরনীয় ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে টাইমস নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, ভারতীয় গেরিলা প্রশিক্ষনের পর আমাদেরকে যখন যার যার এলাকায় যাওয়ার ছাড়পত্র দিলেন,তখন সম্ভবত জুলাই মাস, আমরা তখন একজন কুরিয়ারের দিক নির্দেশনায় দেশে ফিরছিলাম।সংখ্যায় ছিলাম ৩০/৩৫ জন। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর চাচাত ভাই ফজলুল হক তখন আমাদের এই দেশে ফেরার অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন। কুমিল্লার কোন এক গ্রামের বর্ডার এলাকার একটি রেলপথের পাশ দিয়ে খুব উৎফুল্ল মনে ফিরছিলাম দেশে। তখন দেখলাম ট্রেসার বুলেট মেরে আমাদের প্রতিপক্ষ পাক বাহিনী আলোতে এলাকা পরিস্কার করে দিয়েছে। আমরা তখন ছিলাম ফ্রন্ট সাইটে। এমন সময় দেখি আমার সহযোদ্ধা কেরাণীগঞ্জের সালাহ্উদ্দিন আমার পাশে নেই। দেখি তিনি আমার পায়ের কাছে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ঘোংরাচ্ছে। তখনই মনে হল আমরা শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছি।

    আমাদের একটা কোড নাম্বর ছিল। ফজলুল হক মণি ভাইয়ের কাছে থাকা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে তিনি এ সংবাদ আমাদের ইন্ডিয়ান আর্মিদের কাছে পৌঁছে দেন। তিন দিক থেকেই শত্রুপক্ষ আমাদের অ্যাটাক করছিল। তিন দিক থেকেই আসছিল গুলি। তখন মনে হল মৃত্যু অবধারিত। আমরা তখন কিং কর্তব্য বিমূঢ় হয়ে পড়লাম। কিন্তু আমাদের কাছে ছিল অত্যাধুনিক সব যন্ত্র। তাই  শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়িনি। সাধ্যমত ওদের প্রতিহত করতে চেষ্টা করলাম। এদিকে প্রেরিত সংবাদের ভিত্তিতে কিছুক্ষনের মধ্যেই ইন্ডিয়ান তিনটি যুদ্ধ বিমান চলে এল। আমরাও আমাদের কাছে থাকা অত্যাধুনিক সব অস্ত্র দিয়ে পর্যায়ক্রমে ওদের প্রতিহত করতে থাকলাম। এত করে আমাদের মধ্য থেকে ১১ জন শহীদ হল। ওদেরও অসংখ্য সৈন্য মারা পড়ল। সেদিন সোয়া ঘন্টার এই যুদ্ধাভিযানে পর পর তিনবার আমি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলাম। মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে রক্ষা করেছেন।

    যুদ্ধকালীন নয় মাসের শেষের দিকে ১৫ ডিসেম্বর খবর পেলাম দেশের অসংখ্য বুদ্ধিজীবীদের ওরা ধরে ধরে নিয়ে মেরে ফেলছে। এ সময় আমার বন্দরের বাড়ির কাছে সোনাচরা ডক ইয়ার্ডে ছিল আর্মি ক্যাম্প। তখন আমার এই আর্মি ক্যাম্পের তিন জনকে পেয়ে গেলাম ফাঁকা জায়গায়। পেয়েই গুলি করে মেরে ফেললাম ওদের। মারার সময় ওদের একজন বেয়নেট দিয়ে আঘাত করে আমার বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সামান্য একাংশ বাদে অনেকটা কেটে প্রায় অবস্থায় ছিল আমার এই আঙ্গুল। যা আমার নিজেরাই সেলাই করে নিয়েছিলাম।

    মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের সরকার ক্ষমতায়, এ সরকার আমলে আপনারা  কেমন আছেন? কতটুকু মূল্যায়িত হয়েছেন? টাইমস নারায়ণগঞ্জের এমন প্রশ্নের জবাবে আলহাজ্ব এম এ রশিদ বলেন,১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তিন’শ টাকা করে সম্মানী ভাতা চালু করেন। যা পর্যায়ক্রমে দু’হাজার, তিন হাজার, এভাবে বাড়তে বাড়তে বর্তমানে ৮ হাজার টাকায় পৌঁচেছে। সামনে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত হচ্ছে বলে ও জানা গেছে। এছাড়া মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন, দাফন-কাফন সম্মানী এবং সারা বাংলাদেশের সকল মুক্তিযোদ্ধার কবর একই রকম করার একটা পদক্ষেপ নিয়েছেন বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার। এর চেয়ে বেশী আমাদের আর বেশী কিছু চাওয়ার নেই। সব মিলিয়ে এ সরকার আমলে অনেক ভাল আছি আমরা মক্তিযোদ্ধারা।

    বিজয়ের এ দিনে জাতির কাছে আমার প্রত্যাশা, মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে যে মাইলফলক রচনা করছেন, এর ধারাবাহিকতাকে অক্ষুন্ন রাখতে শেখ হাসিনার সরকারকে সার্বিক সহায়তা দিয়ে পর্যায়ক্রমে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে সচেষ্ট থাকবে। আর আমি তাঁর দীর্ঘায়ূ কামনায় আল্লাহ্র দরবারে প্রার্থণা এবং জাতির শুভ কামনা প্রত্যাশা করছি।