শনিবার, আগস্ট ১৯, ২০১৭ ,৪ ভাদ্র ১৪২৪
১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার , ১১ : ৩৯ পূর্বাহ্ণ

  • না.গঞ্জের চিহিৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হউক -মুক্তিযোদ্ধা হাসমত আলী প্রধান

    x

    Decrease font Enlarge font

    06টাইমস নারায়ণগঞ্জ: ১৯৭১ সালের মার্চ মাস, গভীর রাত। পাকিস্তানীদের ছোড়া গুলি জোনাকীর মত জ্বলে জ্বলে উঠে সা সা শব্দ করে এগিয়ে আসছে মুক্তি বাহিনীর দিকে। এরপরও কোনো ভয় নেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। গুলির আঘাতে দলের সঙ্গী মাটিতে লুটিয়ে পড়লো সেদিকে তাকানোরও সময় নেই। মুক্তিবাহিনীকে দমাতে পাক বাহিনীর সহযোগী রাজাকারও সক্রিয়। তবুও মৃত্যুকে উপেক্ষা করে লক্ষ্য একটাই পাক হানাদাদের নির্মূল করে বাংলার মাটিকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করতে হবে। কোন ভয়ই আমাদের রুখতে পারেনি।

    অবশেষে ৭১’র ১৬ ডিসেম্বর ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নিলো বাংলাদেশ। স্বজন হারা বেদনা ভুলে গিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠল গোটা দেশ। আর বিজয়ের ৪৪ বছর অতিবাহিত হলেও যুদ্ধাপরাধীদের অবাধ বিচরনে নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতে সংকোচ বোধ করি। চোখের পানির টলমল চাহনিতে এ কথাগুলো বললেন সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিল পাড়ার বাসিন্দা ২নং সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসমত আলী প্রধান। বর্তমানে তিনি নাসিক ৬নং ওয়ার্ড মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    টাইমস নারায়ণগঞ্জকে দেয়া সাক্ষাতকারে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসমত আলী আরো জানান, একাত্তরে রাজাকাররা তাঁদের বাড়িঘর, গাড়ি, রেশনশপ ও মুদি দোকান জ্বালিয়ে দেয়। ২২টি গরু লুট করে নিয়ে যায়। রাজাকাররা ২ নভেম্বর তার চাঁচা সামছুদ্দিন প্রধানকে পাক বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। যুদ্ধকালীন সময়ে পুরো পরিবারকে রাজাকারের হাতে বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হতে হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ায় তার সব হারানোর শোককে মেনে নিলেও আজো তিনি প্রতিবাদী হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশের যুদ্ধপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনলেও নারায়ণগঞ্জে অনেক চিহ্নিত যুদ্ধপরাধীরা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেননি। নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের একটাই দাবী ওইসব চিহ্নিত যুদ্ধপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

    বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসমত আলী প্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। ভারতের বাঘমারায় মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষন নেই। যুদ্ধ করি বন্দর, সোনারগাঁ, সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায়। আমাদের গ্রুপে ছিলেন ১৭জন মুক্তিযোদ্ধা। এদের মধ্যে দুজন পাক বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। তিনি দুই সন্তানের জনক।

    বিহারী সন্তানদের বৈধতা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে যুদ্ধকালীন স্মৃতি মনে করে হাসমত আলী বলেন, সে সময়ে বিহারী, রাজাকার ও পাকিস্তানীরা সাধারন মানুষদের অভাব অনটনের সুযোগ নিয়ে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সুমিলপাড়া বধ্যভূমিতে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।

    সিদ্ধিরগঞ্জের কয়েকটি চিহ্নিত স্থান সুমিলপাড়া, সাইলো গেইট, এসও কোম্পানী, বার্মাস্ট্যান্ড, জেএমসি এলাকায় রাজাকার ও পাকিস্তানীরা নির্মমভাবে মানুষ মেরে গন কবর দিয়েছে। আজও এ বধ্যভুমিগুলো স্বীকৃতি না পাওয়ায় তিনি এ বধ্যভূমিগুলোকে সনাক্ত করে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু মুক্তিযোদ্ধা নয় সকলের সহযোগীতায় এ দেশ স্বাধীণ হয়েছিল।

    বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসমত প্রধান মুক্তিযোদ্ধাদের ২শত ইউনিট বিদ্যুত ও একটি ডাবল বার্নার গ্যাস ব্যবহারের ফ্রি করা ও মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয়পত্র প্রদানের দাবি জানান। যে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িঘর নেই তাদের বাসস্থানের জন্য খাস জমি বরাদ্দেরও দাবি জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানীদের প্রত্যক্ষ সহযোগী ওই সব যুদ্ধপরাধীরা না থাকলে দেশের ৩০ লাখ লোক শহীদ হতোনা।